ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই নায়কদের পদচারণা। আবার কখনো কখনো খেলোয়াড়দের খলনায়ক বনে যাওয়া। প্রতিটি আসরেই তাই জন্ম হয় কিছু অপূর্ণ গল্পের। আলো ছড়ানোর বদলে হতাশার ছায়ায় ঢাকা পড়ে বহু ফুটবলারের স্মৃতি।
২০২৬ বিশ্বকাপের এমন ফুটবলারদের নিয়ে এবার একটি ফ্লপ একাদশ প্রকাশ করেছে স্পোর্ট বাইবেল। তালিকায় আছেন ফুটবলের কয়েকজন মহাতারকাও।
একাদশটির গোলবারের দায়িত্বে রাখা হয়েছে জার্মানির কিংবদন্তি মানুয়েল নয়্যারকে। দীর্ঘদিনের নির্ভরতার প্রতীক এই গোলরক্ষক এবার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আত্মবিশ্বাসী সেভ করতে পারেননি তেমন। বরং কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও গোল হজমের দায় নিয়ে ডুবিয়েছেন দলকে।

রক্ষণভাগে স্পেনের থিও হার্নান্দেজ, ক্রোয়েশিয়ার যশকো গভার্দিওল, সেনেগালের কালিদু কুলিবালি এবং জার্মানির জশুয়া কিমিখকে রেখেছে গণমাধ্যমটি। খেলার সময় বারবার ভুল অবস্থানে থাকা, দুর্বল ডিফেন্ডিং কিংবা প্রত্যাশার তুলনায় নিম্ন মানের পারফরম্যান্স প্রদর্শনের কারণেই তারা ফ্লপ ডিফেন্ডারের তকমা পেয়েছেন।
মাঝমাঠে পর্তুগালের ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনহা ও উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভার্দে তিনজনই অফ ফর্মে ছিলেন এবারের বিশ্বকাপে। সৃজনশীলতা, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিংবা আক্রমণ তৈরির দায়িত্ব সবকিছুই প্রায় ধারাবাহিকভাবে পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এই মিডফিল্ডাররা।
বিশ্বকাপের ফ্লপ আক্রমণভাগে আছেন ব্রাজিলের নেইমার, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং বেলজিয়ামের জেরেমি ডোকুর মতো তারকারা। ম্যাচের মোড় ঘোরানো জাদুর প্রত্যাশা থাকলেও, চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্টেই নিষ্প্রভ ছিলেন নেইমার। রোনালদোও গোলের ধার হারিয়ে বড় ম্যাচগুলোতে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন।

এদিকে, সদ্য সন্তানের জনক হওয়া ডোকু গ্রুপপর্বের কয়েকটি ম্যাচে গতিময়তা দেখালেও বাকি ম্যাচগুলোতে খুঁজেই পাওয়া যায়নি তাঁকে। সন্তান জন্মের সময় খেলা বাদ দিয়ে পরিবারকে সময় দিতে চাওয়ায় নেটিজেনদের সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি।
নাম যত বড়ই হোক, বিশ্বমঞ্চে পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলে সবসময়। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের এই ফ্লপ একাদশ সেটিই যেন আবারও মনে করিয়ে দিল ক্রীড়ামোদীদের।










