নীল জার্সি কি সত্যিই আর্জেন্টাইনদের জন্য অভিশপ্ত?

ফুটবলে কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবু সমর্থকের হৃদয় কি সব সময় যুক্তির কথা শোনে? একটি জার্সিও কখনো কখনো হয়ে ওঠে ভয়, স্মৃতি আর অপূর্ণতার প্রতীক। আর্জেন্টিনার গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সিকে ঘিরেও আছে তেমনই এক গল্প।

সামান্য জার্সির রঙ ঘিরেই বছরের পর বছর ধরে বেঁচে আছে এক অদ্ভুত শঙ্কা। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অনেকের বিশ্বাস, গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি মানেই বিশ্বকাপে দু:স্বপ্নের শুরু।

কিন্তু, প্রশ্ন হল কোনো জার্সি কি সত্যিই অভিশপ্ত হতে পারে? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও আর্জেন্টিনার গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সিকে ঘিরে ঠিক এমনই একটি বিশ্বাস ছড়িয়ে আছে ফুটবল বিশ্বে।

গল্পটা শুরু হয় ১৯৯০ বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে। পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে সেই গাঢ় নীল জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেনাল্টির একমাত্র গোলে হেরে যায় আলবিসেলেস্তেরা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও সেদিন ভেঙে যায়।

এরপর আসে ২০০২ বিশ্বকাপ। মার্সেলো বিয়েলসার দুর্দান্ত দলকে নিয়ে ছিল আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা। বাছাই পর্বে দুর্দান্ত খেলার পরও মূল আসরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয় আর্জেন্টিনাকে। ইংল্যান্ডের কাছে সেই হারও আসে নীল জার্সি গায়েই।

চার বছর পর, ২০০৬ বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে হেরে বিদায়। তখনও তাদের গায়ে সেই নীল জার্সি।

এরপর ২০১৪। বিশ্বকাপ ফাইনাল। কোটি কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দেন মারিও গোটজে। অতিরিক্ত সময়ে তাঁর করা একমাত্র গোলেই শিরোপা হারায় মেসির দল। সেদিনও আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল সেই গাঢ় নীল জার্সি।

তবে এই জার্সির গল্প শুধু হতাশার নয়। ইতিহাসের অন্য পাতাও আছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই কিংবদন্তি কোয়ার্টার ফাইনাল মনে আছে? ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই নীল জার্সিতেই ম্যারাডোনা উপহার দিয়েছিলেন ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।

আবার ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেদিনও গায়ে ছিল একই নীল জার্সি। তাহলে এই জার্সি কি সত্যিই অভিশপ্ত? নাকি সবই কাকতালীয়?

এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। মেসি, আলভারেজরা পরবেন সেই গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সিই। ইতিহাস কি আবারও ফিরিয়ে আনবে পুরোনো দুঃস্বপ্ন? নাকি ভেঙে যাবে সব কুসংস্কার? উত্তর লুকিয়ে আছে মাত্র নব্বই মিনিটের খেলায়।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link