ক্রিকেটে উপমহাদেশীয় দলগুলোর কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার (সেনা) মতো দেশগুলোতে টেস্ট জেতা যেন আভিজাত্যের চূড়ান্ত মানদণ্ড। দেশগুলোর ঘাসে ভরা পিচে বাড়তি বাউন্সের ঝক্কি আর ভয়ানক সুইং মোকাবিলা করা এশিয়ান ব্যাটারদের জন্য যেন এক অগ্নিপরীক্ষা। এরপর আবার ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পাহাড়সম এই ‘সেনা’ দুর্গ কি এবার দখল করতে পারবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল?
অতীত বলছে, অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি ভারত-পাকিস্তান যেখানে বারবার ধুঁকেছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য অস্ট্রেলিয়া যেন এখনো অপরিচিত এক গোলকধাঁধা। পরিসংখ্যান বলছে, ‘সেনা’ দেশগুলোতে উপমহাদেশীয় দল হিসেবে সবচেয়ে ভালো করেছে ভারত। তারা ‘সেনা’ দেশগুলোতে ১৭৯টি টেস্ট খেলে ৩১টি ম্যাচ জিতেছে, আর অস্ট্রেলিয়ায় খেলা ৫৭ টেস্টে ভারতের জয় মাত্র ১০টিতে।

বিপরীতে, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি টেস্ট খেলে দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে। ইংল্যান্ডের মাটিতেও এখনো জয় অধরা। দক্ষিণ আফ্রিকায়ও আট ম্যাচের সবগুলোতে সঙ্গী হয়েছে পরাজয়। একমাত্র ব্যতিক্রম নিউজিল্যান্ড। কিউইদের বিপক্ষে ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে বাংলাদেশের আট উইকেটের জয়টিই চার পরাশক্তির মাটিতে টাইগারদের একমাত্র টেস্ট জয়ের স্মৃতি হয়ে আছে।
আগামী ১৩ আগস্ট থেকে ডারউইনে অজিদের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া লড়াইয়ের আগে দুঃসংবাদও কম নয়। চোটের কারণে স্কোয়াডে নেই গতির ঝড় তোলা পেসার নাহিদ রানা। অন্যদিকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে এতটুকু ছাড় দিতে নারাজ পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়া।

এরপরও ২০২২ সালের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের স্মৃতিকে সঙ্গী করে অধিনায়ক শান্ত অস্ট্রেলিয়া বধের স্বপ্ন বুনছেন। তার লক্ষ্য স্পষ্ট, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে টিকে থাকতে হলে লড়তে হবে প্রতিটি সেশন আর প্রতিটি দিন ধরে ধৈর্যের সঙ্গে। ডারউইনের বাইশ গজে কি নতুন কোনো মহাকাব্য লিখবে বাংলাদেশ?










