চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানসিটির ভরাডুবির নেপথ্যে

ইতিহাদে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে সেদিন জিততে জিততে হেরে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। টাইব্রেকারে হেরে গিয়ে নিশ্চিতভাবেই পরের আসরে শিরোপা জয়ের প্রতিজ্ঞা করেছিল তাঁরা। কিন্তু নতুন রূপে শুরু হওয়া ২০২৪/২৫ আসরে উল্টো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে দলটা। সাত ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে তাঁরা।

ইতিহাদে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে সেদিন জিততে জিততে হেরে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। টাইব্রেকারে হেরে গিয়ে নিশ্চিতভাবেই পরের আসরে শিরোপা জয়ের প্রতিজ্ঞা করেছিল তাঁরা। কিন্তু নতুন রূপে শুরু হওয়া ২০২৪/২৫ আসরে উল্টো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে দলটা। সাত ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে তাঁরা।

কিন্তু কেন, ইউরোপ দাপিয়ে বেড়ানো সিটিজেনদের হুট করে কি হলো? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে খেলা-৭১।

  • এডারসনের অফ ফর্ম

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এডারসনের সময়টা কাটছে দুঃস্বপ্নের মতন। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা বাদ দিলে বাকি চার ম্যাচেই শিশুতোষ সব ভুল করেছেন তিনি। স্পোটিং সিপি, ফেয়েনুর্দ, জুভেন্টাস কিংবা পিএসজি – প্রতিটা দলকেই গোল উপহার দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। মজার ব্যাপার, ম্যানসিটি দুই ম্যাচ জিতেছে, দু’বারই একাদশের বাইরে ছিলেন তিনি।

  • রদ্রির শূন্যস্থান 

রদ্রি নেই, ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডও নেই। একবিন্দুও বাড়িয়ে বলা হয়নি, আসলেই দলটার মাঝমাঠ রদ্রির উপর প্রচন্ড নির্ভরশীল। এমনকি তাঁর পজিশনে খেলার মত ব্যাকআপ ফুটবলারও নেই তাঁদের স্কোয়াডে। সেজন্যই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের চোট তাঁদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে। গত মৌসুমে তিনি ছিলেন, ম্যানসিটিও অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছিল। এবার ঘটলো উল্টোটা।

  • চোটে জর্জরিত রক্ষণভাগ

কেবল রদ্রি নয়, পেপ গার্দিওলার মূল ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াসও ইনজুরির সঙ্গে যুদ্ধ করে ক্লান্ত। ফেয়েনুর্দ আর স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে খেলতেই পারেননি তিনি, আবার পিএসজির বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে বাধ্য হয়েছেন মাঠ ছাড়তে। সবমিলিয়ে ২২৫ মিনিট ছিলেন না তিনি, এতেই ১১ গোল হজম করেছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা।

এছাড়া চোটের কারণে একাধিক ম্যাচ খেলতে পারেননি জন স্টোনস, নাথান একে। স্বাভাবিকভাবেই সিটিজেনদের রক্ষণভাগ হয়ে পড়েছে বালির বাঁধের মত, তাই লিড পেয়েও বারবার ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছে তাঁরা।

  • নিষ্ফলা আর্লিং হাল্যান্ড

চ্যাম্পিয়ন্সে লিগে ভাল করার প্রধানতম শর্ত সুযোগ কাজে লাগানো, রিয়াল মাদ্রিদের খেলা ঠিকঠাক দেখলে সেটা ভাল করেই জানার কথা। অথচ ম্যানসিটি এ কাজটাই করতে পারছে না এবার। প্রায় প্রতি ম্যাচে প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেক বেশি শট নিয়েও স্কোরবোর্ডে পিছিয়ে থাকছে তাঁরা। আর এটার বড় কারণ হাল্যান্ডের অফ ফর্ম, আবার তাঁর ব্যাকআপ হিসেবেও কেউ নেই গার্দিওলার হাতে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link