বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়া, এক রাজকীয় রোম্যান্স

আরেক তরুণী পাশ থেকে বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করল— ‘ডেভিড বেকহ্যাম, হু?’ প্রথম তরুণী জবাব দিল, ‘কে আবার! ভিক্টোরিয়ার হাজবেন্ড!’ সেইদিনই বেকহ্যাম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমেরিকাকে ফুটবল শেখানো তাঁর কাজ না।

নিউইয়র্কের ব্যস্ত এক সকালে ডেভিড বেকহ্যাম হাঁটছিলেন রোদ মেখে থাকা ফুটপাত ধরে। পেছনে এক তরুণী হঠাৎ বলে উঠল— ‘লুক, বেকহ্যাম!’ ফুটবল তারকা হিসেবে এই স্বীকৃতি পেয়ে একটু হাসলেন বেকহ্যাম। মনে হচ্ছিল, আমেরিকাও বুঝি তাকে চিনতে শুরু করেছে। কিন্তু আনন্দ বেশি সময় টেকেনি।

আরেক তরুণী পাশ থেকে বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করল— ‘ডেভিড বেকহ্যাম, হু?’ প্রথম তরুণী জবাব দিল, ‘কে আবার! ভিক্টোরিয়ার হাজবেন্ড!’ সেইদিনই বেকহ্যাম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমেরিকাকে ফুটবল শেখানো তাঁর কাজ না।

তবে পৃথিবী ঠিকই শিখেছিল—কে ডেভিড বেকহ্যাম। আর ভিক্টোরিয়া? তিনি শুধু স্পাইস গার্লসের সদস্য নন। এই জুটির ভালোবাসা পৃথিবীর আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটা।

সময়টা ১৯৯৭। ম্যানচেস্টারের উত্তরে আয়োজিত এক চ্যারিটি ম্যাচে প্রথমবার দেখা হয় বেকহ্যাম আর ভিক্টোরিয়ার। একজন তখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উঠতি সুপারস্টার। আরেকজন স্পাইস গার্লস ব্যান্ডের ‘পস স্পাইস’—ভিক্টোরিয়া অ্যাডামস। ভিক্টোরিয়া পরে বলেন, ‘আমি জানতাম, এ ছেলেটার সাথেই আমার ভবিষ্যৎ লেখা আছে।’

প্রেমটা এতটাই দ্রুতগতির ছিল যে, ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতেই তারা বাগদান ঘোষণা করেন।  ১৯৯৯ সালের মার্চে তাঁদের প্রথম সন্তান ব্রুকলিন আসে পৃথিবীতে। এর ঠিক কয়েক মাস পর, ৪ জুলাই—ডাবলিনের এক রাজপ্রাসাদে ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম হয়ে যান।

ভিক্টোরিয়ার গাউন ডিজাইন করেছিলেন ভেরা ওয়াং। মাথায় ছিল সোনার মুকুট, স্লিম ব্যারেটের ডিজাইনে। এ যেন এক রাজকীয় অধ্যায়ের সূচনা। তবে, সেলিব্রেটি জীবন মানেই আলো আর গুজবের স্রোত। ২০০৩ সালে বেকহ্যাম রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন, পরিবার যায় মাদ্রিদে।

কিন্তু, এরপরেই ছড়িয়ে পড়ে সম্পর্ক ভাঙনের গুজব—সহকারিণী রেবেকা লুর সঙ্গে বেকহ্যামের সম্পর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন। এই দম্পতি কিছু বলেননি, শুধু হাতে হাত রেখে সামনে হেঁটেছেন।
এটাই ছিল তাদের উত্তর। নীরব অথচ দৃঢ়।

২০০২ সালে রোমিও, ২০০৫-এ ক্রুজ আর ২০১১ সালে হার্পার—চার সন্তানের হাসিতে ভরে উঠেছে তাঁদের জীবন। আর বেকহ্যাম-ভিক্টোরিয়া যুগল হয়ে উঠেছে ফ্যাশনের সংজ্ঞা। কখনো একই রঙের পোশাকে, কখনোই বা একান্ত ছাঁদে। ২০০৯ সালের আরমানির ফটোশুট থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের ফ্যাশন উইকে লাল গালিচা—তারা ছিলেন সবসময় আলোয়।

ভিক্টোরিয়া গড়েছেন নিজস্ব ফ্যাশন সাম্রাজ্য, ডেভিড গড়েছেন বেকহ্যাম ব্র্যান্ড। তারা যেন দুজনেই নিজেদের মতো করে পৃথিবীকে বলছেন—ভালোবাসা মানে শুধু একসাথে থাকা নয়, একসাথে বেড়ে ওঠা।

২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে বেকহ্যাম বলেছিলেন, ‘আমরা গোপনে একদিন আবার বিয়ে করেছিলাম। শুধু ছয়জন ছিল সেখানে।’ এ যেন দ্বিতীয়বার প্রেমে পড়ার মতো ঘটনা।

প্রতিবার বিবাহবার্ষিকীতে তারা শেয়ার করেন নতুন কোনো ছবি, নতুন কোনো গল্প। একটা ছবিতে দেখা যায়, তারা দুজনে বেগুনি পোশাকে, টাওয়ার-আকৃতির কেক কাটছেন। আরেকবার দেখা যায়—ব্রুকলিনকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নতুন বাবা-মা।

বিশ্ব যখন ভুলে যায় প্রেমের সংজ্ঞা, তখন বেকহ্যাম-ভিক্টোরিয়া মনে করিয়ে দেয়— ভালোবাসা মানে পারফেক্ট হওয়া নয়, পারফেক্টভাবে একে অপরকে ধরে রাখা।

একসময় যারা ছিলেন ‘ভিক্টোরিয়ার হাজবেন্ড’ আর ‘ফুটবলারদের গ্ল্যামার ওয়াইফ’, আজ তারা যুগল জীবনের প্রতীক। এ গল্পে খ্যাতি আছে, বিতর্ক আছে, সন্তান আছে, সংগ্রাম আছে। কিন্তু, সবকিছুর উপরে আছে একটাই শব্দ—ভালোবাসা।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link