টেস্টে ধৈর্যের প্রতীক বলতে যা বোঝায়, মুশফিকুর রহিম ঠিক তাই। যদিও, টেস্ট ক্রিকেটে ‘আধুনিক গ্রেট’দের নিয়ে আলোচনা হলে তাঁর নামটাই বাদ পড়ে।
মুশফিকের টেস্ট ক্যারিয়ারটা যেন বিবর্তনবাদের প্রতীক। স্পষ্ট ক্যারিয়ারটাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ক্যারিয়ারের শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম ৫০ টেস্টে গড় ছিল ৩২-এর নিচে।
তবে ২০১৭ সাল থেকে বদলে গেলেন তিনি। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের ওপর রান করেছেন, গড় ৪৫-এর ওপরে। বিশ্বে এমন ব্যাটার আছেন মাত্র পাঁচজন। মুশফিক তাঁদেরই একজন।

লঙ্কাদ্বীপের গলের এই ভেন্যু তাঁর জন্য খুব পয়া। এই ভেন্যুতেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার ১৩ ইনিংস পর এই ভেন্যুতেই রানের খরা কাটল তাঁর।
গলের উইকেট ঐতিহাসিক ভাবেই প্রথম দু’দিনে খুব রানপ্রসবা। তবে, রানের জন্য ঘাম ঝরাতে হয়। মুশফিকুর রহিম নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই সেটা পেরেছেন। ষষ্ঠবারের মত টেস্টের এক ইনিংস ৩০০-এর বেশি ডেলিভারি খেলেছেন। এই তালিকায় তিনি বাংলাদেশিদের মধ্যে আছেন শীর্ষে।
সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিম এই কীর্তি ছুঁয়েছেন দু’বার। আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ আশরাফুল, তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত — সবারই সেই অভিজ্ঞতা মাত্র একবার করে হয়েছে।

ইনিংসে ২০০ ডেলিভারি খেলার দিকে থেকেও সবার ওপরে আছেন মুশফিক। মোট ১৩ বার ইনিংসে ২০০-এর বেশি বল খেলেন। সাতবার খেলেন মুমিনুল। আশরাফুল ও তামিমের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে দু’বার করে। বাকিদের জন্য মুশফিক যেন এখানে দূর আকাশের তারা।
৩০ তম বারের মতো এক ইনিংসে ৪০০ বা এর বেশি রান তুলেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি সপ্তমবার। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ, টেস্ট ক্যারিয়ারে সপ্তমবারের মতো ১৫০ ছাড়ানো ইনিংস খেললেন মুশফিকুর রহিম।










