রিশাদ হোসেন, দ্য গেম চেঞ্জার

রিশাদ যদি এদিন ফেল করতেন তবে তাকে লুকিয়ে রাখার উপায়ও ছিল। তবুও রিশাদের উপর ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের অগাধ আস্থা।

যেকোন দিন একজন লেগ স্পিনার বনে যেতে পারেন আপনার গেম চেঞ্জার। রিশাদ হোসেন সেটাই যেন বাতলে দিয়ে গেলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। তুমুল সমালোচনার পরও তাকে একাদশে রাখার ফলাফল হাতেনাতে পেল বাংলাদেশ। বেশ প্রয়জনীয় এক ম্যাচে রিশাদ অন্তত নিজের মান রাখলেন। দলকে জেতাতে সহয়তা করলেন ঘূর্ণির ছড়ি ঘুরিয়ে।

এশিয়া কাপের প্রথম দুই ম্যাচে রিশাদের বোলিং ছিল গড়পড়তা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তো তাকে রীতিমত লুকিয়ে রাখতে হয়েছে। এক ওভারে ১৮ রান খরচা করেছিলেন তিনি। তাকে আর বোলিংয়ে আনেননি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। এরপর সবাই হয়ত ভেবেছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাকে দেখা যাবে না একাদশে।

তার পরিবর্তে নাসুম আহমেদের অন্তর্ভুক্তি পূর্বাভাস মিলতে শুরু করে। কিন্তু টাইগারদের টিম ম্যানেজমেন্ট গেম চেঞ্জার রিশাদের উপর ভরসা রাখল। আর এদফা নিরাশ করেননি রিশাদ। দূর্দান্ত বোলিংয়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত জয় পেতে সহয়তা করলেন তরুণ এই লেগ স্পিনার। ইব্রাহিম জাদরানের ক্যাচ ফেলে দিয়ে তার অন্তর্ভুক্তির সংশয়কে উড়িয়েছেন বল হাতে।

একটা পর্যায়ে বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। উইকেটে টিকে যাওয়া গুরবাজ যেকোন ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। সে তথ্য সকলের জানা। টাইগারদের মনের ভেতর তখন ভয়ের কুড়েঘর ধীরে ধীরে মাথাচাড়া দিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় তুলে সেই কুড়েঘর মাটিতে মিশিয়েছেন রিশাদ হোসেন।

ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। শুধু যে সেই উইকেটেই রিশাদ জয়ের রাস্তা তৈরি করেছেন তা কিন্তু নয়। বেশ কৃপণতার পরিচয়ও দিয়েছেন তিনি। আগের দিন যেখানে এক ওভারেই ১৮ রান হজম করেছিলেন তিনি, সেই একই রিশাদ এদিন স্রেফ ১৮ রান দিলেন ব্যক্তিগত চার ওভারে।

এছাড়াও গুলবাদিন নাইবের মত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট গিয়েছে তার ঝুলিতে। তবে এদিন রিশাদকে তার স্বরুপে ফিরতেই হতো। বাংলাদেশ মূলত চারজন ফ্রন্টলাইন বোলার নিয়ে আফগানদের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল। অতএব রিশাদ যদি এদিন ফেল করতেন তবে তাকে লুকিয়ে রাখার উপায়ও ছিল। তবুও রিশাদের উপর ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের অগাধ আস্থা।

প্রতিদান তিনি দিয়েছেন। প্রয়োজনের মুহূর্তে ভীষণ দরকারি উইকেট তুলে দিয়েছেন। পাশাপাশি রান খরচেও কৃপণতা দেখিয়েছেন। ১৫৫ রানের লক্ষ্য যে মোটেও বড় নয়। আফগানরা পৌঁছেও গিয়েছিল জয়ের বন্দরে। শেষ অবধি তাদেরকে হারতে হয়েছে স্রেফ আট রানের ব্যবধানে। এই সামগ্রিক চিত্রই বরং বলে দেয়, চাপের মুখে রিশাদ ঠিক কতটা দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। নিজের সক্ষমতার দারুণ ব্যবহার করে দলের সমস্ত ভরসার দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন। আর বনে গেছেন ‘দ্য গেম চেঞ্জার’।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link