একটা ক্যাচ মিসের মূল্য কত জানেন? ২৯ বলে ৬৮ রান। আট বলে সাত রানের মাথায় আউট হতে পারতেন অভিষেক শর্মা। কিন্তু জাকের আলি অনিকের একটি ক্যাচ মিস, অভিষেকে উপহার দেয় দ্বিতীয় জীবন। এরপর আর থামেননি ভারতের তরুণ এই ব্যাটার। আগ্রসনের পাগলা ঘোড়ায় চেপে ছুটেছেন তিনি দুর্বার গতিতে। ফিফটি করে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়ে তবেই ফিরেছেন সাজঘরে।
টসে জিতে বাংলাদেশ দলের বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণের আপ্রাণ চেষ্টাই করলেন তানজিম হাসান সাকিব। তার বিপক্ষে রীতিমত তটস্থ থাকতে হয়েছিল অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিলকে।
কোন প্রকার সুযোগ না দিয়ে তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিংটা করে যাচ্ছিলেন সাকিব। আর সেই শৃঙ্খল বোলিংয়ের পুরষ্কার হিসেবে অভিষেকের ব্যাটের বেশ বড়সড় খোঁচা আদ্য করে ফেলেন তানজিম সাকিব।

ভারতের দলীয় রান তখন ১০, অভিষেকের নামের পাশে সাত। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ওঠা ক্যাচ, উইকেটের পেছনে ফেলে দিলেন জাকের আলি অনিক। ব্যাস, এরপর আর অভিষেক শর্মাকে থামায় কে? প্রথম তিন ওভারে ১৭ রান তোলা ভারত, পাওয়ার প্লে এর পরবর্তী তিন ওভারে তুলে নেয় আরও ৫৫ রান।
স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ রানই এসেছে অভিষেক শর্মার ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় জীবন পেয়ে ২০০ স্ট্রাইকরেটে ফিফটি তুলে ফেলেন অভিষেক শর্মা। তিনি যেন আর পেছনে ফিরে তাকাতে চাইলেন না। চোখের পলকে একের পর এক বলকে আছড়ে ফেলেছেন বাউন্ডারির ওপারে। শুরুতে চাপ সৃষ্টি হলেও, অভিষেকের দৃঢ়তায় ও জাকেরের ব্যর্থতায় ঘুরেফিরে সেই ফ্লাইং স্টার্ট পেয়েই যায় ভারত।
শেষ অবধি অভিষেক থেমেছেন ৩৭ বলে ৭৫ রান করে। রিশাদ হোসেনের দারুণ ফিল্ডিং থেকে তাকে রান আউট করেন মুস্তাফিজ। তবে ততক্ষণে ক্ষতি যা করার করেই ফেলেছেন অভিষেক। ১১২ রানের মাথায় তার বিদায় ঘটে। কিন্তু বড় সংগ্রহের পোক্ত ভীত ততক্ষণে গড়ে দিয়েছেন বা-হাতি এই ব্যাটার। একটি ক্যাচ মিসের মাশুল বাংলাদেশকে দিতে হয়েছে বেশ করুণভাবেই।












