সাইফ কি হতে পারবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়?

আপাতত, সাইফকে নিজের আত্মবিশ্বাসে ভর করে একটা স্থিরচিত্র আঁকতে হবে। সময় কম, পরিস্থিতি বিপদগ্রস্ত- এটাই মোক্ষম মুহূর্ত সাধারণ দর্শকদের হৃদয়ের জায়গা করে নেওয়ার।

সাইফ হাসান কি হতে পারবেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের সুদিন ফেরানোর অগ্রদূত? তিনি কি হবেন ‘পোস্টার বয়’? খুব দ্রুতই হয়ত তার প্রতি প্রত্যাশার বাড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে ইতিবাচক চোখে অনুসন্ধান চালালে সাইফের চাইতে ভাল বিকল্প অন্তত এই মুহূর্তে আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। যাদের ভরসাতে বাংলাদেশ এক সময় সাহস দেখাত ম্যাচ জয়ের, সেই তেমন এক চরিত্র হওয়ার গুণাবলি অন্তত ধারণ করেন সাইফ।

এশিয়া কাপের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েই নজড় কেড়েছেন সাইফ হাসান, করেছেন বাজিমাত। ইউটিলিটি ক্রিকেটার হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল সদস্য তিনি। এশিয়া কাপে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেছেন তিনি। আগ্রাসী সেই ব্যাটিংয়ের ধারা অব্যাহত তিনি রেখেছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও।

সে সুবাদেই তাকে ওয়ানডে দলেও অভিষেক ঘটেছে তার। ব্যাট হাতে প্রতিটা ম্যাচেই তিনি শুরু পেয়েছিলেন। তবে প্রথম দুই ম্যাচে তিনি আউট হয়েছেন দ্রুত। তবে সেই দু’টো ইনিংসে তিনি টি-টোয়েন্টি ধারাতেই ব্যাট করতে চেয়েছেন। দ্রুত রান তোলার তাড়না থেকে উইকেট এক প্রকার থ্রো করে এসেছেন।

কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে, সাইফ রীতিমত ওয়ানডে ধাঁচের ব্যাটিংটাই করেছেন। নিজের ইনিংস বড় করতে চেয়েছেন। তবে আগ্রাসনকে একেবারেই ঝেড়ে ফেলেননি। সামঞ্জস্য রেখেছেন সবকিছুর। তিনি আর বাকিদের মত বোকামিও করেননি। রশিদ খানের এক দুর্ধর্ষ ডেলিভারিতে আউট হয়েছেন, সেখানে তার দোষের কিছু নেই।

তাছাড়া এদিন বল হাতেও দুর্ধর্ষ পারফরম করেছেন সাইফ হাসান। স্রেফ চার ওভার হাত ঘুরিয়ে, তিনটি উইকেট বাগিয়ে নিয়ে গেছেন। রান বিলিয়েছেন মাত্র ৬ রান। আফগানিস্তানের ৩২০ রানকে ২৯৩ অবধি থামানোর কারিগর তাকেই ধরা যেতে পারে। সাইফ ওই স্পার্কটা অন্তত ছড়াতে সক্ষম হচ্ছেন।

আর সেটাই বরং সাধারণ দর্শকদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে। আর তাতে করে দর্শকদের মাঠের ফেরার একটা নতুন উপলক্ষও বনে যেতে পারেন সাইফ হাসান। ক্রিকেটাঙ্গনে বাংলাদেশের অর্জনের খাতা তো বরাবরই শূন্য। তবুও সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের জন্য হলেও দর্শকরা মাঠমুখী হয়েছেন একটা পর্যায়ে।

তেমন এক চরিত্রের এখন বড্ড অভাব। সেই অভাবের একটা সমাধান হওয়ার রসদ রয়েছে সাইফের হাতে। বড় বড় ছক্কা হাঁকানোর দক্ষতা, গেম চেঞ্জিং সক্ষমতা- এসব কিছুই বনে যেতে পারে সাইফের পরিপূরক।

এখন সাইফ সেই পথে হাটবেন কি-না সেটা হয়ত সময়ই বলে দেবে। আপাতত, সাইফকে নিজের আত্মবিশ্বাসে ভর করে একটা স্থিরচিত্র আঁকতে হবে। সময় কম, পরিস্থিতি বিপদগ্রস্ত- এটাই মোক্ষম মুহূর্ত সাধারণ দর্শকদের হৃদয়ের জায়গা করে নেওয়ার।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link