সোহান-মোসাদ্দেক ঝড়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ডানহাতি এই ব্যাটারের ডানপিটে ব্যাটিং, প্রোটিয়াদের ফাইনালের পথে বিছিয়ে দেয় অজস্র কাঁটা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৫ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আকবর আলীর দল।

হাবিবুর রহমান সোহানের তাণ্ডবের উপর ভর করে হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টের প্লেট পর্বের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৫ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আকবর আলীর দল। জিসান আলম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বরং জয়ের ভীতটা বাংলাদেশের হয়েছিল পোক্ত।

প্লেট পর্বের প্রথম সেমিফাইনালে, দক্ষিণ আফ্রিকা টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণের জন্য খুব একটা কালক্ষেপণ করেননি সোহান। ডানহাতি এই ব্যাটারের ডানপিটে ব্যাটিং, প্রোটিয়াদের ফাইনালের পথে বিছিয়ে দেয় অজস্র কাঁটা। ৪১৫ স্ট্রাইকরেটে চলেছে সোহানের ব্যাট।

স্রেফ ১৩ বলে ৫৪ রান আদায় করেন বাংলাদেশের ওপেনার। ছোট ময়দানের পূর্ণ ফায়দা তুলে নেন তিনি আটটি সুবিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে। সাথে ছিল একটি চারও। তার সাথে জুটি গড়া জিসান ব্যাট চালিয়েছেন প্রায় ৩৪৩ স্ট্রাইকরেটে। যার ফলে ওপেনিং জুটিতেই ৮৫ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ দল।

শেষের দিকে মোসাদ্দেকের ৮ বলে ২৭ রান বাংলাদেশকে দেয় ১২৮ রানের লড়াকু পুঁজি। এই টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন ৭৫ রান ডিফেন্ড করা দলের জন্য ১২৮ রানও ছিল যথেষ্ট। আবু হায়দার রনিরা জয় তুলে নিতে কোন প্রকার ভুল করেননি। রনি তুলে নেন দুইটি উইকেট। অন্যদিকে ব্যাট হাতে মারকুটে ইনিংস খেলার পর, বল হাতেও জিসান করেছেন বাজিমাত। তিনিও তুলে নেন দুই উইকেট।

নির্ধারিত ছয় ওভারে ১০৩ রানের বেশি আর সংগ্রহ করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে করেই বাংলাদেশের জয় হয়েছে সুনিশ্চিত। ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক হংকং। আফগানিস্তানকে হারিয়ে, প্লেট পর্বের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link