আক্ষেপের সুতোয় গেঁথে থাকা দুই নক্ষত্র পতনের উপাখ্যান

আফতাব আহমেদ নাকি মোহাম্মদ আশরাফুল, কার অবক্ষয় সবচেয়ে বেশি দুঃখ দেয়? আফসোসের ধূসরতার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এ যেন এক প্রাচীন ধ্বংসস্তুপ। এককালে যার ছিল ভীষণ জৌলুস। 

আফতাব আহমেদ নাকি মোহাম্মদ আশরাফুল, কার অবক্ষয় সবচেয়ে বেশি দুঃখ দেয়? কারো কাছে আফতাব আহমেদের উজ্জ্বল তারকা হতে না পারাটা বেদনার গল্প, কারো কাছে আশরাফুলের ঝড়ে পড়া বিষাদের উপনাস্য। আর এই দুইজনের সেরা সার্ভিস না পাওয়া বাংলাদশ ক্রিকেটের এক আক্ষেপের মহাকাব্য।

একবার ভাবুন, আফতাব আহমেদ ও মোহাম্মদ আশরাফুল- একজন আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের ধারক, আরেকজন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’। কথায় কথায় তাদের অর্জনের তুলনা হচ্ছে বিশ্বকাঁপানো সব মহাতারকাদের সাথে। ক্রিকেটের কোন আলোচনায় বারবার উঠে আসছে আশরাফুল ও আফতাবের নাম। কেমন হতো সেই দৃশ্য? গর্ব হতো নিশ্চয়ই!

কিন্তু হাতের মুঠোয় থাকা সেই সুযোগটুকু হেলায় নষ্ট করেছেন আফতাব-আশরাফুল দুইজনই। দু’জনই পা বাড়িয়েছিলেন নিষিদ্ধ আঙিনায়। তাতে ভষ্ম হয়েছে তাদের ক্রিকেট ক্যারিয়ার। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ অকাল মৃত্যু ঘটিয়েছে আফতাব নামক এক ভয়ানক ঝড়ের। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যখন কেবল দুগ্ধ শিশু, সেই আমলে আফতাবের ব্যাট চলেছে ১২৮ এর একটু বেশি স্ট্রাইকরেটে।

দৃঢ় পথচলার দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্ট্রাইকরেট এখনও ঘুরপাক খায় ১৩০ এর আশেপাশে। আক্ষেপটা ঠিক কেন হয়, তা আর না বললেও চলছে নিশ্চয়ই। সেই আক্ষেপের তালিকায় সবচেয়ে বেদনাতুর অন্তর্ভুক্তি সম্ভবত মোহাম্মদ আশরাফুল। সম্ভাবনার বর্ণিল ফুল কেবলই তো প্রস্ফুটিত হতে শুরু করেছিল। তখনই ফিক্সিংয়ের কালো ছায়ায় জড়িয়ে গেলেন তিনি।

আফসোসে তিনি যে দিন কেদেছিলেন, সেদিন এই বাংলাতেও নিরব কান্নার একটা রোল পড়ে গিয়েছিল। টেস্টে এখনও সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ আশরাফুল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চোখে চোখে রেখে শেষ কে সেঞ্চুরি হাকিয়েছিল? ওই আশরাফুলের পরে অজি দম্ভের দেয়ালে আঘাত করতে পেরেছিলেন কেবল মুশফিকুর রহিম। সেটা আদায় করতেও কেটে গেছে ১৪টি বছর।

এমন একজন ব্যাটারকে বড় অবেলায় হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। আফতাব-আশরাফুলের যুগলবন্দী জমে ক্ষীর হওয়ার মুহূর্তেই সবকিছু কেমন করে যেন এলোমেলো হয়ে গেল। তারপর ধীরে ধীরে জন্ম নিল দু’টো আক্ষেপের উপাখ্যান। যার প্রতিটি পাতায় পাতায় আফসোসের ধূসরতার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এ যেন এক প্রাচীন ধ্বংসস্তুপ। এককালে যার ছিল ভীষণ জৌলুস।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link