ক্রিকেট ব্যাকরণ বলে, বড়দের সম্মান করতে হয়। কিন্তু আঠারো ছোঁয়া এক কিশোর যদি খোদ স্টিভ ওয়াহ বা ম্যাথু হেইডেনকে স্লেজিং করে মাঠ গরম করে তোলেন, তবে তাকে কী বলবেন? দুঃসাহস নাকি আগামীর গর্জন? বলছি ভারতীয় ক্রিকেটে সেই ‘বেবি ফেস’ ঘাতক পার্থিব প্যাটেলের কথা।
২০০৪ এর ব্রিসবেন ওয়ানডে। সেঞ্চুরি করে দাপটে মাঠ ছাড়ছেন ম্যাথু হেইডেন। ঠিক তখনই ড্রিঙ্কস হাতে প্যাভিলিয়নের সিঁড়িতে উদয় হলেন এক তরুণ। হেইডেনের কানে এমন কিছু বিষ ঢাললেন যে, অজি দানব হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ঘুষি মারার হুমকি দিলেন!
এর বছর খানেক আগেই সিডনি টেস্টে কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহকে উইকেটকিপিং পজিশন থেকে পার্থিব বলেছিলেন, “সুইপ মেরে দেখান না, জানি মিস করবেন!” স্টিভ ওয়াহরও স্বভাবসুলভ পাল্টা জবাব “বড়দের সম্মান করতে শেখো, আমার অভিষেকে তুমি ডায়াপার পরতে”।

২০০২ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ কিপার হিসেবে অভিষেক। ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো ছিল স্বপ্নীল। কিন্তু ঠিক যখন তিনি নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই ভারতীয় ক্রিকেটে আগমন ঘটে মহেন্দ্র সিং ধোনির। ভাগ্যের পরিহাস আর ধোনি জাদুতে অনেকটাই আড়ালে চলে যান পার্থিব। অথচ দস্তানা হাতে যতটা দক্ষ ছিলেন, ব্যাটার হিসেবে পার্থিব ছিলেন তার চেয়েও বেশি কার্যকরী।
তবে পার্থিব যে হার মানার পাত্র নন। ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে কিংবা ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মোহালি টেসটে – যখনই সুযোগ পেয়েছেন, নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০১৬ সালে ঋদ্ধিমান সাহার অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে ৪২ ও ৬৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছিলেন। কিন্তু ঋদ্ধিমান সুস্থ হয়ে ফিরতেই আবারও তাঁকে জায়গা ছাড়তে হয়। ২০১৮ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ী ম্যাচে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটি খেলেন তিনি।
গাঙ্গুলি-শচীন-দ্রাবিড়-লক্ষ্মণদের যুগেও নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন এই তরুণ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ভারতের হয়ে একটিও বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা হলো না তাঁর। এই আক্ষেপ নিয়েই অবশেষে ২০২৪ সালে এসে বুটজোড়া চিরতরে তুলে রেখেছিলেন চির সজীব এই ভারতীয় ব্যাটার।

২৫ টেস্টে ৯৩৪ রান আর ৩৮ ওয়ানডেতে ৭৩৬ রানের পরিসংখ্যান দিয়ে হয়তো তাঁর সামর্থ্য পুরোপুরি মাপা যাবে না। তবে ভারতীয় ক্রিকেটের পালাবদলের সাক্ষী হিসেবে পার্থিব প্যাটেল হয়ে থাকবেন এক অনন্য চরিত্র।










