শিরোপা ধরে রাখতে কেমন দল গড়ল আরসিবি?

১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৫ আসরে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের(আইপিএল) শিরোপা ঘরে তুলেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু(আরসাবি)। এবার সেটা ধরে রাখার মিশন বিরাট কোহলিদের সামনে। কতটুকু কী করতে পারবে? কত পথ যেতে পারবে? কিংবা দলটা সত্যিকার অর্থে এবারও শিরোপার দাবিদার কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক।

১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৫ আসরে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শিরোপা ঘরে তুলেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। এবার সেটা ধরে রাখার মিশন বিরাট কোহলিদের সামনে। কতটুকু কী করতে পারবে? কত পথ যেতে পারবে? কিংবা দলটা সত্যিকার অর্থে এবারও শিরোপার দাবিদার কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক।

ব্যাটিংয়ে আরসিবির মূল স্তম্ভ বহু বছরের মতো এবারও বিরাট কোহলি। গত আসরে ৬৫৭ রান করা ওপেনার বিরাটকে এবারও নিজের  ঘাড়ে দায়িত্ব নিতে হবে। অন্য ওপেনার ফিল সল্টের প্রধান কাজ হবে পাওয়ারপ্লেতে ঝড়ো শুরু এনে দেওয়া। শুরুর ছয় ওভারে এই দুজন মিলে ভালো শুরু এনে দিতে পারলে আরসিবির ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা করতে হবে না বেশি।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করা জ্যাকব ব্যাথেলের দিকে নজর রাখতে পারেন দর্শকরা। সেমিফাইনালে ভারতের সাথে সেঞ্চুরি করা এই তরুণ ব্যাটিং দুর্দশায় ঢাল হয়ে দাঁড়াতে পারেন। অধিনায়ক রজত পাতিদারের কাঁধেও থাকবে বড়সড় দায়িত্বে। টিম ডেভিড, ক্রুণাল পান্ডিয়ারা মিডল অর্ডারে শক্তি হবেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জন্য।

তবে আলাদা করে বলতে হবে স্লগার উইকেটকিপার জিতেশ শর্মার কথা। গত বছর শিরোপা এনে দেওয়ার পেছনে তার ভূমিকা ছিল অনেক বেশি। এবারের আসরে রান তাড়া করে ব্যাট করার ম্যাচগুলোতে ত্রাণকর্তা হয়ে উঠবেন তিনিই। হুটহাট কোনো দিনে জ্বলে উঠতে দেখা যেতে পারে ক্যারিবিয়ান রোমারিও শেফার্ডকে।

এবারও পেস ব্যাটারির দায়িত্বে থাকবেন ভুবনেশ্বর কুমার। পাওয়ারপ্লেতে উইকেট এনে দিয়ে প্রতিপক্ষের উপর চাপ দিতে সিদ্ধহস্ত তিনি। পেসার জশ হ্যাজলউডের সার্ভিস শুরুর দিকে না পাওয়ার কারণে অবশ্য ভুগতে হতে পারে আরসিবিকে। তবে তিনি দলে যুক্ত হলে বোলিং লাইনআপ হবে অনেক শক্তিশালী। ম্যাচের যেকোনো জায়গায় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারার সক্ষমতা আছে এই দীর্ঘদেহীর।

তার অভাবে ডেথ ওভারে বাঁহাতি পেসার ইয়াশ দয়ালের সাথে শ্রীলঙ্কান পেসার নুয়ান থুসারাকে তাই দায়িত্ব নিতে হবে বেশি করে। স্পিনে ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার লক্ষ্য থাকবে মাঝের ওভারে রানের গতি কমানোর । আর সেই সুযোগে উইকেট ফেলার চেষ্টা চালাবেন লেগস্পিনার সুয়াশ শর্মা।

সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে আরসিবির মূল শক্তি ব্যাটিংয়ে। এমন অনেক আছেন যে বিপদের দিনে দায়িত্ব নিয়ে দাঁড়াতে পারবেন। যেকোনো প্রকারের পিচেই ভাল করার সক্ষমতা আছে এই দলের। আগে ব্যাট করে বড় সংগ্রহ আনা হোক কিংবা টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বড় লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলা, দুই অবস্থাতেই নিজেদের মাথা ঠান্ডা রেখে ভাল ফলাফল করতে পারবে এরা। হুট করে কেউ বড় ইনজুরিতে না পড়লে এমন সম্ভাবনা খুব কম যে ব্যাটিং নিয়ে বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হবে।

অন্য দিকে ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিং এবার একটু দুর্বল শুরুর দিকে। জশ হ্যাজলউড থাকলে খুব বেশি চিন্তা করতে হতো না তাদেরকে। কিন্তু , এর আগ পর্যন্ত খুব শান্তিতে থাকবে না বোলিং ইউনিট। বিশেষ করে ডেথ ওভারে ইয়াশ দয়াল ছাড়া বড় নাম কেউ না থাকার কারণে আরসিবিকে ভুগতে হতে পারে কিছুটা হলেও। মাঠে নামলে কী হবে তা আগে থেকে পুরোপুরি বলতে পারা না গেলেও আরসিবির প্লে-অফে থাকার সম্ভাবনা থাকছেই।

Share via
Copy link