বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একের পর এক একক সিদ্ধান্ত ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঘিরে সংস্থাটির ভেতরে-বাইরে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেও তিনি এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছেন, যা পরিচালনা পর্ষদের অনেক সদস্যের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
সর্বশেষ বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন নিয়ে। ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেই বুলবুল একক সিদ্ধান্তে পরিচালক আমজাদ হোসেনকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেন এবং তার জায়গায় দায়িত্ব দেন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোকসেদুল কামালকে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন আমজাদ হোসেন। এর আগে একইভাবে পদত্যাগ করেছিলেন ইশতিয়াক সাদেক। ফলে ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ এখন নেমে এসেছে ২৩ জনে।
বিসিবি সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা না করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমনকি অনেক সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে দায়সারাভাবে বিষয়টি জানান। এতে বোর্ডের ভেতরে দূরত্ব ও ক্ষোভ দুটোই বাড়ছে।

এর আগে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তদন্ত কমিটি গঠন করলে, সেই প্রেক্ষিতে সভাপতির পক্ষ থেকে একটি কঠোর ভাষার চিঠি পাঠানো হয়, যা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়। প্রশ্ন ওঠে, এ ধরনের পদক্ষেপ তিনি এককভাবে আদৌ নিতে পারেন কি না।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুলবুলের সঙ্গে ক্রিকেটার, ক্লাব সংগঠক, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বোর্ড পরিচালকদের সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বোর্ডে তার আস্থাভাজন কয়েকজন ছাড়া অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই শিথিল হচ্ছে।
গঠনতন্ত্রের দশম অধ্যায়ের ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতিতে সভাপতির একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকলেও, সেটি পরবর্তী বোর্ড সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই ধারার সুযোগ নিয়ে নিয়মিতভাবেই একক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি।
এর আগেও নারী উইং কমিটি থেকে আব্দুর রাজ্জাককে সরিয়ে রুবাবা দৌলাহকে চেয়ারম্যান করা, গ্রাউন্ডস কমিটির দায়িত্ব খালেদ মাসুদ পাইলটকে দেওয়া এবং গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আসিফ আকবরকে নিয়োগ দেওয়ার মতো একাধিক সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নিয়েছেন।

আমজাদ হোসেনের সঙ্গে মতপার্থক্যের শুরু হয় নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করা নিয়ে। এরপর মিরপুর স্টেডিয়ামে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির মতো স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয় তার মতামত ছাড়াই। এতে দুজনের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে।
ফলাফল, অস্ট্রেলিয়া থেকে ফোন করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়টি আমজাদ হোসেনকে জানান বিসিবি সভাপতি। এরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।










