র্যাংকিংয়ে ব্যবধান ৭৮—কাগজে-কলমে এই দূরত্বটাই যেন মাঠেও স্পষ্ট হয়ে উঠল। নিজেদের মাঠে দাপট দেখিয়ে ভিয়েতনাম ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশকে। হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে ম্যাচটা এক অর্থে প্রথমার্ধেই শেষ হয়ে যায়। সবগুলো গোলই বাংলাদেশ হজম করে প্রথমার্ধে।
ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অষ্টম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিতে ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো আত্মঘাতী গোল করে বসেন জায়ান আহমেদ। যদিও গোলটি লেখা হয় শট নেওয়া পাম তুন হাইয়ের নামে। সেই ভুলের মাশুল আর পুষিয়ে ওঠা যায়নি। বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিয়েতনাম আরও ছন্দ খুঁজে পায়।
১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন প্যাম চুন মান। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল হেডে জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বাংলাদেশের ডিফেন্স তখন বেশ এলোমেলো। মাঝেমধ্যে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা দেখা গেলেও তা ছিল বিচ্ছিন্ন। ৩১ মিনিটে একবার গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দারুণ সেভ করে দলকে বাঁচালেও, ৩৮ মিনিটে আর পারেননি। নগুয়াইন হাই লংয়ের নিখুঁত কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-০।

লম্বা ইনজুরি কাটিয়ে হামজা চৌধুরী মাঠে নামলেও বোঝা গেছে, পুরো ছন্দে ফিরতে এখনও সময় লাগবে। মাঝমাঠে তার উপস্থিতি কিছুটা স্থিতি দিলেও ম্যাচের গতি বদলানোর মতো প্রভাব রাখতে পারেননি। কার্ডজনিত কারণে রাকিব হোসেনের অনুপস্থিতিও চোখে পড়েছে আক্রমণভাগে।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা গুছিয়ে খেলেছে। অফসাইড ট্র্যাপে ফেলার চেষ্টা, বল দখলে রাখার প্রয়াস—সবই ছিল। কিন্তু প্রথমার্ধের তিন গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার মতো ধার আর দেখা যায়নি। ভিয়েতনামও তখন কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে ফলাফল ধরে রাখায় মন দেয়। ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলা শুরু করে বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে সোহেল রানার জায়গায় জামাল ভূঁইয়াকে নামায়। তিনি তিন-চারটা আক্রমণও করেন।
এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়ে দুইবার ড্র আর একবার জিতেছিল তারা। দীর্ঘ বিরতির পর আবার মুখোমুখি হয়েও সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রাখল স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত হারের ব্যবধান ৩-০ তেই থাকল। বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ বাদ দিলে এই ম্যাচ থেকে প্রাপ্তির খাতা একদমই শূন্য।











