একটা সময়ে এসে নক্ষত্রকেও বিদায় নিতে হয়, এটাই জগতের নিয়ম। ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম না। মহেন্দ্র সিং ধোনি, যার নামের সাথে মিশে আছে চেন্নাইয়ের সোনালী ইতিহাস, তিনি আজ দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর দীর্ঘ সফরের শেষ বাঁকে।
গত একটা মাস ধরে নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছিলেন ধোনি। স্বপ্ন ছিল হয়তো এক শেষ রাজকীয় গর্জনে রাঙিয়ে দেবেন আইপিএলের ২০২৬ আসর। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অনুশীলনের সময় পেশির চোট তাকে মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দিল।
সিএসকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই সপ্তাহের বিশ্রামের কথা বললেও, ভেতরের ফিসফাস বলছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের আগে মাহির মাঠে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অর্থাৎ, অন্তত ছয়টি ম্যাচে গ্লাভস হাতে সেই চিরচেনা দীর্ঘকায় শরীরটিকে উইকেটের পেছনে দেখা যাবে না।

তবে অন্ধকারের ওপারেই থাকে আলো। ধোনির এই অনুপস্থিতি কি সিএসকের জন্য নতুন কোনো ভোরের ইঙ্গিত? গত কয়েক মৌসুমে চোটের কারণে মাহি নিজেকে কেবল শেষ কয়েক ওভারের ক্যামিওতে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। এবার সময় এসেছে উত্তরাধিকার নির্বাচনের।
১৪.২ কোটি টাকার বিশাল চুক্তিতে আসা কার্তিক শর্মা কিংবা তরুণ প্রশান্ত বীরের সামনে এখন নিজেদের জাত চেনানোর মোক্ষম সুযোগ। ধোনির শূন্যস্থান পূরণের কঠিন লড়াইয়ে তারা কতটা সফল হন, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে ক্রিকেট বিশ্ব।
কিপিংয়ের গুরুদায়িত্ব এবার সামলাবেন সাঞ্জু স্যামসন। সিইও কাশি বিশ্বনাথন আগেই আভাস দিয়েছিলেন যে, সব ম্যাচে ধোনির খেলা অনিশ্চিত। চোটের এই নাটকীয় মোড় হয়তো ধোনিকে দলের ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ হিসেবে খেলতে বাধ্য করবে।

মাঠে ধোনি নেই, ডাগআউটেও নেই তার ছায়া। রুতুরাজ গায়কোয়াড আর সাঞ্জু স্যামসনের তরুণ মস্তিষ্কের সাথে কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের মেলবন্ধনে তৈরি হবে তাই নতুন রণকৌশল। চিপক স্টেডিয়ামের হলুদ সমুদ্র হয়তো অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনবে তাদের ‘থালা’র ফেরার জন্য। তবে আগামী তিন সপ্তাহই বলে দেবে, মহেন্দ্র সিং ধোনি পরবর্তী যুগে চেন্নাই সুপার কিংস কোন ঠিকানায় পৌঁছাতে চায়।











