দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের ময়দানে থাকলেও রাহানেকে বিশ ওভারের ক্রিকেটে খুব বেশি নির্ভরযোগ্য ধরা হয়নি কখনোই। কেন যেন মানুষের মনে বিশ্বাস ছিল ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের জন্য তাকে নিয়ে বাজি ধরা যায় না। তবে, এবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সাথে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেমেই সেসব প্রশ্নের যেন জবাব দিলেন রাহানে।
দুই বছর আগে শিরোপা জিতলেও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সর্বশেষ আসরে খুব একটা ভালো করতে পারেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। এসবের মাঝে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নেতৃত্ব পেয়েছিলেন আজিঙ্কা রাহানে। অধিনায়ক হিসেবে চাপ তো ছিলই, এর সাথে ছিল ব্যাটিং নিয়ে সন্দেহ।
কিন্তু তিনি অবাক করেছেন শুরুতেই। কেকেআরের হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন তিনি। ট্রেন্ট বোল্ট, জসপ্রিত বুমরাহ, আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফরদের মতো টি-টোয়েন্টির মহারথীদের নিয়ে সাজানো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণ করে গেছেন। একবারের জন্যেও মনে হয়নি যে অস্বস্তি অনুভব করছেন। নিয়মিত বিরতিতে হাঁকিয়ে গেছেন চার-ছক্কা।

আলাদা করে বলতে হয় হার্দিক পান্ডিয়ার সাথে লড়াইটার কথা। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক যখন নিজের প্রথম ওভার করতে আসেন তখন সেই ওভারে এক বলও খেলতে পারেননি। কিন্তু, হার্দিকের পরের ওভারের শুরুর দুই বলই বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন।
অবশ্য, শেষ পর্যন্ত হাসি এসেছে হার্দিক পান্ডিয়ার মুখেও। তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন কলকাতার অধিনায়ক। শার্দুল ঠাকুরের বলে ইনিংসের ১৪তম ওভারে আউট হওয়ার অনেক আগেই অর্ধ-শতক করেছেন রাহানে। আইপিএলে এটা তার ৩৪তম ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৬৭ রান করে মাঠ ছেড়েছেন কেকেআরের দলনেতা।
আইপিএল মাত্র শুরু হলো। এখনো পুরো টুর্নামেন্ট বাকি। কলকাতা নাইট রাইডার্স বা আজিঙ্কা রাহানে কীভাবে শেষ করে তা এখনই বলা মুশকিল। কিন্তু, শাহরুখ খানের দলের অধিনায়কের শুরুটা যে খাসা হয়েছে তা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই। নিজের উপর আসা সন্দেহগুলো যে উড়িয়ে দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন রাহানে- তা বলে দেওয়া যায় নিঃসংকোচে।










