সময় বদলায়, রোহিত-কোহলি নয়!

ফুরিয়ে এল বেলা, ফুরিয়ে এল দিনের আলো। দুজনের পথ বেঁকে গেছে দু’দিকে। তবে গন্তব্যটা এক। বিদায়ের স্লোগানের সুর এক, বুড়িয়ে যাওয়া চোখের কোণে ভেসে ওঠা স্বপ্নটাও এক। অবশ্য এটাই তো স্বাভাবিক, রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলি, তাঁরা যে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

ফুরিয়ে এল বেলা, ফুরিয়ে এল দিনের আলো। দুজনের পথ বেঁকে গেছে দু’দিকে। তবে গন্তব্যটা এক। বিদায়ের স্লোগানের সুর এক, বুড়িয়ে যাওয়া চোখের কোণে ভেসে ওঠা স্বপ্নটাও এক। অবশ্য এটাই তো স্বাভাবিক, রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলি, তাঁরা যে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

কতজনই তো শেষ দেখে ফেলেছিল, একটা লাইন প্রতিধ্বনিত হয়েছিল ভারতের আকাশ-বাতাস জুড়ে। তারা বুড়ো হয়েছে, বয়স বেড়েছে, ছেঁটে ফেলাই এখন শ্রেয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া দুই বুড়ো ঘোড়া তখন ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। তবে জেদটা ক্লান্ত নয়, তা তখনও জলন্ত অগ্নিশীখা।

নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। তবে ‘বুড়িয়ে গেছে, ওদের দিয়ে হবে না’ এই কথাটাই জ্বালিয়ে দিল ছাইছাপা আগুন। অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে তারা বরাবরই আপোষহীন। দামামা বাজিয়ে ঘোষণা দিল যুদ্ধে নামার, ফের প্রমাণ করার।

এরপর থেকে নতুন উদ্দমে চলছে দুজনের প্রলয় নৃত্য। আন্তর্জাতিক থেকে ঘরোয়া সবখানে একটাই সুর। রোহিত-কোহলির জুটির বেহালার সেই মোহনীয় সুর মুখরিত করে তুলল ক্রিকেটের বাইশ গজ। সমালোচক থেকে ভক্তকূল, সকলেই তাল মেলাল সেই সুরের মূর্ছনায়।

তবুও রোহিত-কোহলির ক্ষান্ত হলেন না। পাড়ায় আইপিএল এল, ভিন্ন জার্সিতে মাঠে নামলেন। প্রথম দিন কোহলি, পরের দিন রোহিত। জ্বলে উঠল দুজনের ব্যাট, চেন্নাস্বামীর গর্জন মিশে গেল ওয়াংখেড়েতে। ছবি বদলেছে, ফ্রেম একই। সময় বদলেছে, তবে টেকনিক, দৃঢ়তা, সংকল্প, স্বপ্ন, সবই আগের মতোই আছে।

চেজ মাস্টার সুনিপুণ দক্ষতায় নিজের কাজে মগ্ন, হিটম্যান ঝড় তুলছেন স্বভাবসুলভভাবে। প্রতিপক্ষের তরুণ, তেজি বোলাররা দুই বুড়ো রাজাকে থামানোর উপায় পাচ্ছে না। অসহায় হয়ে তাকিয়ে দেখছে দুই মহারথীর অবিরাম ছুটে চলা। এর শেষ কোথায়, তা কেউ জানে না।

কোহলির বয়স ৩৭ ছাড়িয়েছে, রোহিতের ৩৮। সবাই শুধু বয়সটাই দেখেছে। তবে কেউ ভাবেনি, বটগাছের যত বয়স বাড়ে, ততই তা পোক্ত হয়। রোহিত-কোহলিরা তেমনই এক মহীরূহ।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link