যেখান থেকে শুরু, শেষ বেলায় সেখানেই ফিরে যাওয়া। ‘সুপারস্টার’ বানানো দলের বিপক্ষে প্রথম মোলাকাতে পারফরম করা। এমন ঘটনা ফুটবল ময়দানে ঘটে অহরহ। তবে রবীন্দ্র জাদেজা এমন আবেগঘন পরিস্থিতি মঞ্চায়ন করলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চে।
সেই ২০০৮ সালে, উদীয়মান তারকা হয়ে জাদেজা জিতেছিলেন আইপিএলের শিরোপা। রাজস্থান রয়্যালসের হাত ধরে শ্রেষ্ঠত্বের পথে হাঁটা শুরু করেছিলেন ১৯ বছর বয়সী রবীন্দ্র জাদেজা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেই তিনি গায়ে চড়িয়েছিলেন রাজস্থানের জার্সি। এরপর তো জীবনটা তার বনে গেছে এক বিস্তৃত রুপকথা।
তবে কালের পরিক্রমায়, রাজস্থানের নীলের বিসর্জন দিয়ে, চেন্নাই সুপার কিংসের হলুদা আভায় মিশে গেলেন। সম্ভাবনাময় তরুণ থেকে হয়ে উঠলেন স্যার জাড্ডু। একের পর এক সফলতা এসে ধরা দিয়েছে তার হাতে। চেন্নাইয়ের হয়ে চারখানা শিরোপা জিতলেন। দলের অন্যতম ভরসার স্তম্ভ, আশার জলাধারে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। সেই তিনি ছেড়ে গেলেন যোদ্ধা হওয়ার একাডেমি।

এরপর তিনি ফিরে গেলেন তার তারুণ্যের সেই ছোট্ট কুঠিরে। জার্সির রঙটা বদলে গেছে। আকাশের নীলের সাথে রঙিন এক জার্ভেরার রঙ মিলেমিশে একাকার। তবে বদলাননি কেবল রবীন্দ্র জাদেজা। পারফরমেন্সের পোক্ত নিদর্শনে তিনি বোঝালেন পেশাদারিত্বের আসল মানে। আবেগকে খানিকটা পাশে সড়িয়ে, তিনি বনে গেলেন চেন্নাইয়ের অন্যতম যমদূত।
সরফরাজ খানকে প্যাভিলিয়নে পাঠালেন। তবুও শিভাম দুবে চড়াও হতে চাইলেন জাদেজার উপর। কতকাল এই জাদেজার বলে নেটে প্রস্তুত হয়েছেন শিভাম, তার তো কোন ইয়ত্তা নেই। তিনি ভেবেছিলেন তিনি খুব ভালভাবেই চেনেন জাদেজাকে। কিন্তু ধূর্ত রবীন্দ্রও যে তার নাড়ি-নক্ষত্র সব জানেন- সেটা ভুলেই গিয়েছিলেন শিভাম।
অগত্যা রবীন্দ্র জাদেজার বাজিমাত। ক্রিকেট ময়দানে এমন ঘটনার অবতারণায় জাদেজা সৃষ্টি করে গেলেন নিজস্ব রুপকথার আরও এক অধ্যায়। তাকে এখন মুছে ফেলা ভীষণ দায়!












