দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে তারকাদের উজ্জ্বল উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। জনসমর্থনের পালে হাওয়া লাগাতে রাজনৈতিক দলগুলো বরাবরই খেলার মাঠের নায়কদের নিজেদের ডেরায় ভিড়িয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম ছিল না। তবে মাঠের ২২ গজে যারা ছিলেন অপরাজেয় বীর, রাজনীতির পিচ্ছিল পথে পা রাখতেই যেন তাদের সেই মহিমা আজ ধূসর।
একসময় যারা ছিলেন কোটি মানুষের নয়নের মণি, রাজনৈতিক পরিচয়ের বেড়াজালে পড়ে তারা আজ নিজভূমে পরবাসী অথবা লোকচক্ষুর আড়ালে। সাকিব আল হাসান, যাঁর ব্যাটে-বলে বিমোহিত হতো সারা বিশ্ব, তিনি আজ বিদেশের মাটিতে অনিশ্চিত সময় পার করছেন। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে ঘরের মাঠে রাজকীয় বিদায়ের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা যেন এক সুদূরপরাহত কল্পনা।
অন্যদিকে, ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজা, যিনি বিনয় আর নেতৃত্বের গুণে হয়ে উঠেছিলেন গণমানুষের প্রতিনিধি, তিনিও আজ নিভৃতে। নড়াইলের যে মাটি তাঁকে দুবার সাংসদ নির্বাচিত করেছিল, সেই মাটিতেই তাঁর বসতভিটা পুড়েছে বিক্ষোভের আগুনে।

এই প্রেক্ষিতেই বর্তমান সরকার ও প্রশাসন ক্রীড়াঙ্গনকে কলুষমুক্ত করার ডাক দিয়েছে। সম্প্রতি অ্যাথলেটদের জন্য বিশেষ কল্যাণ তহবিল ও ‘স্পোর্টস কার্ড’ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বলিষ্ঠ বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পেশাদার খেলোয়াড়দের কাজ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা, কোনো নির্দিষ্ট দলকে নয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাই বলে দেয় যে অন্য কারও সাকিব-মাশরাফির মতো এই বেহাল দশা হোক, সেটা দল-মত নির্বিশেষে কারও কাম্য না। দিনশেষে আমরা চাই আমাদের প্রিয় মানুষগুলো আজন্মভর আমাদের প্রিয় হয়েই থাকুক।
মাঠের নায়ক যখন রাজনীতির দাবার গুঁটি হয়ে যান, তখন পরাজয়টা কেবল ব্যক্তির হয় না, হয় এক প্রজন্মের আবেগের। সাকিব আর মাশরাফি, দুজনই আমাদের শিখিয়ে গেলেন যে, ২২ গজের সম্রাট হওয়া সহজ, কিন্তু রাজনীতির চোরাবালিতে টিকে থাকা বড় দায়। হয়তো ভবিষ্যতে কোনো কিশোর যখন ব্যাট হাতে মাঠে নামবে, সে আর রাজনীতির রঙিন চশমা পরার স্বপ্ন দেখবে না।











