পিতার চেয়ে উলটোপথে জিদানপুত্র!

ফ্রান্সে জন্ম নিয়ে, সেদেশের ফুটবল ঐতিহ্য ছেড়ে আলজেরিয়ার হয়ে বুক চিতিয়ে লড়তে যাওয়ার মতো ঘটনা ফুটবল রোমান্টিকদের চোখে খুব একটা নজরে পড়ে না।

রক্তের উত্তরাধিকার যেখানে রাজকীয়, ফুটবলের আঙিনায় তার গল্পটা সবসময়ই একটু অন্যরকম হয়। ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান এবার বাবার চেনা নীল জার্সি ছেড়ে বিশ্বমঞ্চে লড়বেন আলজেরিয়ার মরু-ঝড় হয়ে। বাবার সোনালী অতীতকে পেছনে ফেলে ছেলের এই ভিন্ন দেশের জার্সি বেছে নেওয়া ফুটবল বিশ্বে এক নতুন রোমাঞ্চের জন্ম দিয়েছে।

যে জিদান ফ্রান্সকে বিশ্বজয়ের স্বাদ এনে দিয়েছিলেন, তাঁরই আপন রক্ত এখন লড়বেন আফ্রিকার এক লড়াকু ফুটবল পরাশক্তির হয়ে। সদ্য ঘোষিত আলজেরিয়ার ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন লুকা জিদান। একে নিয়তি ছাড়া আর কিইবা বলা যায়। 

লুকার ফুটবলের হাতেখড়ি কিন্তু ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলেই হয়েছিল। ফরাসিদের যুব দলে খেলেছিলেনও বেশ কিছুদিন। তবে রক্তের টান কিংবা ভাগ্যের জেরে ২০২৫ সালে এসে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলজেরিয়ার জার্সি গায়ে তাঁর অভিষেক ঘটে। বাবার চেনা সবুজ ঘাসে ছেলে নিজের এক নতুন সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পা বাড়ান আফ্রিকায়।

পিতার সাথে পুত্রের বৈসাদৃশ্য কেবল জার্সির রঙেই শেষ হয়নি, মাঠের পজিশনেও এসেছে এক বড় বৈচিত্র্য। বাবা জিনেদিন জিদান যেখানে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে নিজের মায়াবী পাসে পুরো বিশ্বকে সম্মোহিত করে রাখতেন, সেখানে ছেলে লুকা বেছে নিয়েছেন গ্লাভস হাতে গোলপোস্ট সামলানোর ভূমিকা। বাবার কাজ যেখানে গোল বানানো, ছেলের কাজ সেখানে গোল ঠেকানো।

ফুটবল ইতিহাসে আলজেরিয়ান ভূমিপুত্রদের ফ্রান্সের জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপানোর গল্পটা বেশ পুরনো। তবে ফ্রান্সে জন্ম নিয়ে, সেদেশের ফুটবল ঐতিহ্য ছেড়ে আলজেরিয়ার হয়ে বুক চিতিয়ে লড়তে যাওয়ার মতো ঘটনা ফুটবল রোমান্টিকদের চোখে খুব একটা নজরে পড়ে না।

অল্প কদিন পরেই নতুন বিশ্বকাপ, মাঠের আলো-আঁধারিতে যখন বাজবে আলজেরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত, তখন ডাগআউট কিংবা গ্যালারির আবেগ ছুঁয়ে যাবে পুরো বিশ্বকে। জিদান নামের সেই চিরন্তন রাজকীয় মহিমায় এবার যোগ হচ্ছে এক নতুন আফ্রিকান অধ্যায়। এখন শুধু অপেক্ষা, গোলপোস্টের নিচে জিদানের যোগ্য উত্তরসূরির সেই নতুন ইতিহাস লেখার।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link