কেকেআরের উপরে আরসিবির আসন

১৮ বসন্তের খরা কাটিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হওয়া আরসিবিকে এখন এক অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

দুই ট্রফি, পাঁচ ফাইনাল আর এগারোটি প্লে-অফ। নিছক আবেগের খোলস ভেঙে সংখ্যার বিচারে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সর্বকালের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি তালিকায় আরসিবি এখন চার নম্বরে। ১৮ বসন্তের খরা কাটিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হওয়া আরসিবিকে এখন এক অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

আহমেদাবাদের মাটিতে গুজরাট টাইটান্সকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে ট্রফি ধরে রাখার পর ওলটপালট হয়ে গেছে আইপিএলের চিরচেনা ইতিহাস। এই জয়ের হাত ধরে চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের পর ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ শিরোপার কীর্তি গড়ল বেঙ্গালুরু।

​এই এক জয়েই সর্বকালের র‍্যাঙ্কিংয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে পাঁচে নামিয়ে চারে উঠে এসেছে আরসিবি। অথচ ট্রফির সংখ্যায় কেকেআর এখনো ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে। তাহলে আরসিবি কেন উপরে?

কারণ ১৯ মৌসুমের ইতিহাসে আরসিবি প্লে-অফে গেছে ১১ বার (৫৭.৮৯%), যেখানে কেকেআর গেছে মাত্র আট বার। ফাইনালের মঞ্চেও আরসিবি এগিয়ে ৫-৪ ব্যবধানে। ২০২৬ সালের এই দ্বিতীয় ট্রফি আরসিবির আগের ফাইনাল হারের ক্ষতগুলোকে ব্যর্থতার বদলে শীর্ষে থাকার ধারাবাহিকতা হিসেবে সিলমোহর দিয়েছে।

​অবশ্য র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তিনটি স্থান এখনো আরসিবির নাগালের বাইরে। ১৭ মৌসুমে ১২ বার প্লে-অফ আর পাঁচটি ট্রফি নিয়ে  এক নম্বরে চেন্নাই।  আট বছরে পাঁচটি ট্রফি জয় নিয়ে দুইয়ে মুম্বাই। আর মাত্র পাঁচ মৌসুমে তিনটি ফাইনাল এবং লিগের সর্বোচ্চ ৬১.০৪% জয়ের হার নিয়ে আরসিবির ঠিক উপরে, অর্থাৎ তিনে আছে গুজরাট টাইটান্স।

২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক ট্রফি ধরে রাখার মহাকাব্য আসলে আরসিবির সেই দীর্ঘদিনের অপূর্ণতার ক্ষতে এক পরম সান্ত্বনার প্রলেপ। এতকাল যারা তীরে এসে তরী ডোবার গল্প লিখেছে, তারা আজ উত্তাল সমুদ্র জয় করে ফিরেছে ঘরে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link