জাদু দেখাবে বিশ্বকাপের বল!

বলের ভেতরে থাকা মোশন সেন্সর চিপটি এতটাই শক্তিশালী যে, ম্যাচ চলাকালীন প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডাটা কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে সক্ষম।

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তবে, এবারের বিশ্বকাপ আলাদা। এবার শুধু খেলোয়াড়রাই নন, দর্শকদের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠছে মাঠে খেলার বলও। এবারের বল শুধু খেলার জন্য লাগার কাজে সীমাবব্ধ নয়, বরং, বলই হয়ে উঠবে স্বয়ং এক রেফারি। বিশ্বকাপের মাঠে ‘ট্রিয়নডা’ নামের বলই এবার সকলকে জাদু দেখাবে। 

ফুটবলের চিরায়ত রূপকে বিদায় জানিয়ে বিশ্বমঞ্চে এবার আলো ছড়াবে ট্রিয়নডা নামের এই অভিনব প্রযুক্তি। রেফারিরা এখন ম্যাচের আগে বলে হাত দিয়ে শুধু বাতাস পরীক্ষা করবেন না, বরং নিখুঁতভাবে দেখে নেবেন চার্জের পরিমাণও। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলটি একবার ফুল চার্জ দিলে টানা ৬ ঘণ্টা মাঠ কাঁপাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

এই বলের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে এর ভেতরে থাকা এক আধুনিক প্রযুক্তিতে। এটি কেবল চামড়ার গোলক নয়, বরং প্রতি মুহূর্তে ডাটা সংগ্রহ করতে থাকা দৌড়ে বেড়ানো এক কম্পিউটার। বলের ভেতরে থাকা মোশন সেন্সর চিপটি এতটাই শক্তিশালী যে, ম্যাচ চলাকালীন প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডাটা কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে সক্ষম।

মাঠের সবুজ ঘাসে বলের গতি কত, কোন অ্যাঙ্গেলে সেটি ছুটছে, এ সবকিছুরই প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হিসাব রিয়েল টাইমে চলে যাবে কন্ট্রোল রুমে বসে থাকা ম্যাচ অফিশিয়ালদের মনিটরে। ফলে অফসাইডের চুলচেরা বিশ্লেষণ, পেনাল্টিবক্সের ভেতরে সুক্ষ্ম ফাউল কিংবা হ্যান্ডবলের মতো চিরচেনা সব বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর একদম নিখুঁত ও বিতর্কহীন ফয়সালা সেকেন্ডের মধ্যেই করে ফেলতে পারবেন ম্যাচ রেফারিরা।

ফুটবল বিশ্বকাপ হলো বিশ্বজুড়ে প্রতি চার বছর পর পর শুরু হওয়া এক উন্মাদনা। প্রিয় দলের পছন্দের খেলোয়াড়ের জাদু দেখার পাশাপাশি নিত্যনতুন প্রযুক্তিও দর্শকদের মন ভরাবে। এখন শুধু আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, তারপরেই ট্রিয়নডার পেছনে ছুটে চলা ফুটবলারদের জাদুতে মুগ্ধ হবে পুরো বিশ্ব। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link