ব্রাজিলের জার্সিতে যখন প্রথমবার মাঠে নামেন নেইমার, তখন তার বয়স মাত্র ১৮। অন্যদিকে লিওনেল মেসি তখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা। সেই সময় থেকেই ব্রাজিল যেন নিজেদের একজন ‘মেসি’ খুঁজছিল। আর সেই ভূমিকায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল নেইমারকে।
সমস্যাটা সেখানেই। নেইমারকে কখনো শুধু নেইমার হিসেবে দেখা হয়নি। তাকে বিচার করা হয়েছে মেসির সঙ্গে তুলনা করে, বিশ্বকাপ জিততে পারলেন কি না, ব্রাজিলকে একা কাঁধে বহন করতে পারলেন কি না এসব প্রশ্নের ভিত্তিতে।
অথচ প্রতিভার বিচারে নেইমার ছিলেন তার প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার। সান্তোসকে কোপা লিবার্তাদোরেস জেতানো, বার্সেলোনায় মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে সঙ্গে নিয়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ গড়া, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ট্রেবল জয়—সবই রয়েছে তার অর্জনের খাতায়।

তবুও যেন কিছু একটা অপূর্ণ রয়ে গেছে।
২০১৪ বিশ্বকাপে চোটে ছিটকে যাওয়ার পর পুরো ব্রাজিল যেন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। অনেকের কাছে মনে হয়েছিল, নেইমার নেই মানেই ব্রাজিলের স্বপ্ন শেষ। এরপর জার্মানির বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য ৭–১ গোলের পরাজয় শুধু একটি ম্যাচ হারার গল্প ছিল না, বরং একটি জাতির অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার প্রতিচ্ছবি ছিল।
২০১৮ সালে বেলজিয়াম, ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়া—দুইবারই বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙেছে নেইমারের চোখের সামনে। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে তার করা দুর্দান্ত গোলটি মনে হয়েছিল হয়তো অবশেষে ভাগ্য বদলে দেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও হতাশাই সঙ্গী হয়।
এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের সামনে দাঁড়িয়ে নেইমার। বয়স, চোট আর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক ফুটবলও খেলতে পারেননি খুব বেশি। তবুও ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে দলে রেখেছেন। কারণ হয়তো এখনও বিশ্বাস করা হয়, বড় মঞ্চে জাদু দেখানোর ক্ষমতা নেইমারের মধ্যে রয়ে গেছে।

নেইমারের ক্যারিয়ারকে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। কারণ তার গল্পটা ট্রফির চেয়েও বড়। এটি এমন এক ফুটবলারের গল্প, যিনি ছোটবেলা থেকেই একটি দেশের আশা, কোটি মানুষের স্বপ্ন এবং অবিরাম তুলনার ভার বহন করে চলেছেন।
হয়তো তিনি কখনো মেসি হননি। কিন্তু সত্যিটা হলো, ফুটবল বিশ্বেও দ্বিতীয় কোনো মেসি নেই। যেমন দ্বিতীয় কোনো নেইমারও নেই।
২০২৬ বিশ্বকাপ তাই নেইমারের জন্য শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়। এটি হতে পারে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ বড় অধ্যায়, যেখানে তিনি প্রমাণ করতে চাইবেন—তিনি কারও ছায়া নন, তিনি নিজেই নেইমার।












