তাহলে কি বিশ্বকাপের শিরোপা এবার যাচ্ছে আফ্রিকায়? কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে এখন একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কবে ঘুচবে ফুটবলের এই মহাদেশীয় আক্ষেপ? পেলের সেই বিখ্যাত ভবিষ্যৎবাণী আজও মেলেনি, তবে কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর রূপকথা প্রমাণ করেছে যে, আফ্রিকার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন এখন আর বামনের চাঁদের দিকে হাত বাড়ানোর মতো অসম্ভব কিছু নয়।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপের পর বলেছিলেন ২০০০ সালের মধ্যেই কোনো না কোনো আফ্রিকান দেশ বিশ্বকাপের নিজেদের ঘরে নিয়ে যাবে। কিন্তু, এই শতকে এসে ছয়টি বিশ্বকাপ হয়ে গেলেও সেই কথা এখনো সত্যি হয়নি। যদিও ২০২২ সালে শেষ চারে পৌঁছে গিয়ে মরক্ককো প্রমাণ করেছিল তাদের পক্ষে বিশ্বজয় একেবারে অসাধ্য নয়।
সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সেই অবিশ্বাস্য সাফল্য হুট করে আসেনি। এর পেছনে ছিল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং লক্ষ কোটি ডলারের সরকারি বিনিয়োগ। তৃণমূলের একাডেমি থেকে শুরু করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে মরক্কো আজ আফ্রিকার শীর্ষ দল।
এখন আরেকটি নতুন বিশ্বকাপের মঞ্চ তৈরি। যেখানে আফ্রিকা থেকে অংশ নিতে যাচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক দশটি দল। টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়ায় এবং ৩২ দলের নক-আউট পর্বের নতুন ফরম্যাটে আফ্রিকার দলগুলো নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে বেশি। এই বাড়তি সুযোগ তাদের মানসিক ভীতি দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আগে আফ্রিকায় জন্মানো অনেক খেলোয়াড়দের দেখা যেত ইউরোপের নানা দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে নামতে। সেই মেধা পাচারের দিন আজ ফুরিয়েছে। এখন ইউরোপে খেলা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা নিজেদের শিকড়ে ফিরে আসছেন। কঙ্গো বা কেপ ভার্দের মতো উঠতি দলগুলো ইউরোপের সেরা ক্লাবে খেলা ফুটবলারদের নিজেদের দলে এনে ভিড়িয়েছে। এই তারকাদের ইউরোপের গতিময় ফুটবলের অভিজ্ঞতা আফ্রিকার শক্তিকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
তবে, বিশ্বকাপ জেতার মতো বড় স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করা একেবারে সহজ হবে না আফ্রিকার কোনো দেশের পক্ষে। ফ্রান্স, স্পেন কিংবা পর্তুগালের মতো শক্তিশালী ইউরোপীয়ান দেশগুলোর পাশাপাশি তাদের জয় ছিনিয়ে আনতে হবে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার মতো লাতিন আমেরিকান পরাশক্তিদের কাছ থেকে।
ফুটবল অ্যানালিস্টদের মতে, এবার মরক্কো এবং সেনেগালের মতো দলগুলোই আফ্রিকার সবচেয়ে বড় আশার আলো। এছাড়া আলজেরিয়া, মিশর কিংবা আইভেরি কোস্টের মতো দেশগুলোকে হেলায় নিলে চলবে না। তারা ইউরোপ কিংবা লাতিন আমেরিকার যেকোনো বড় দলকে কাঁপিয়ে দিতে পারে অনায়াসে। তবে বিশ্বজয়ের এই দীর্ঘ ও কঠিন পথ পাড়ি দিতে তাদের কেবল নিখুঁত ট্যাকটিকস নয়, প্রয়োজন ভাগ্যের ছোঁয়াও।
আগে যেখানে আফ্রিকার দেশগুলো বিশ্বকাপের ময়দানে নামতো কেবল অংশগ্রহণ করার জন্যেই, যাদেরকে ভয়ের নজরে দেখতো না কোনো পরাশক্তিই, সেখানে এবারের বিশ্বকাপে এসে গল্পটা বেশ ভিন্ন। বড় কোনো দলকে বিদায় দিয়ে অঘটন ঘটানোর জন্যে নয়, বরং, আফ্রিকার দেশগুলোর স্বপ্ন এবার বিশ্বজয়ের।











