এক রাতের মধ্যেই বিশ্বকাপের জার্সি পালটে গেল ক্যারিবীয় দেশ হাইতির। ফুটবল জার্সিতে খোদাই করা হাইতির এক গৌরবময় ইতিহাসকে ‘রাজনৈতিক বিবৃতি’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ঘটনার নেপথ্যে ছিল হাইতির জার্সি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘সায়েতা’-র একটি ঐতিহাসিক ডিজাইন। দেশটির ফুটবল জার্সির কাপড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল ১৮০৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ভার্তিয়েরেসের যুদ্ধ’-র একটি গ্রাফিক চিত্র। যে লড়াইয়ে ফরাসি বাহিনীকে হারিয়েছিল হাইতির স্বাধীনতাকামী বিপ্লবী জনতা।
এই যুদ্ধটি হাইতির মানুষদের জন্য কেবল একটি যুদ্ধ জয় ছিল না, এ ছিল দাসত্বের শিকল ভাঙার গল্প। এই বিজয়ের ওপর ভর করেই ১৮০৪ সালের পহেলা জানুয়ারি বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় প্রথম স্বাধীন কৃষ্ণাঙ্গ প্রজাতন্ত্র। হাইতির এবারের বিশ্বকাপের জার্সির সুতোয় সুতোয় জড়ানো ছিল সেই জাতীয় ঐতিহ্যের গল্প।

কিন্তু ফিফার চোখে হাইতির ইতিহাসের গৌরবগাথা হয়ে উঠল এক ‘অবৈধ রাজনৈতিক বার্তা’। ফিফার কড়া নির্দেশনার পর সায়েতা সেই নকশা বদলে নতুন এক সাধারণ জার্সি জমা দিতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে সেই জার্সির অনুমোদন দেয় ফিফা।
কলম্বিয়ান জার্সি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সায়েতা স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ডিজাইনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। এটি ছিল মূলত হাইতির নিজস্ব সংস্কৃতি, আত্মপরিচয় আর বীরত্বের ইতিহাসকে বিশ্বমঞ্চে সকলের সামনে তুলে ধরার এক শৈল্পিক প্রয়াস। তবে, ফিফার নিষেধের সামনে আটকে গেল সেই শিল্প প্রচেষ্টা।
নানা কারণে বিতর্কিত হচ্ছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ। সেসবের সাথে যুক্ত হলো হাইতির জার্সি নিয়ে ঘটে যাওয়া এই কাণ্ড। ফুটবলের মাঠে ফিফার কথাই চূড়ান্ত হলেও, জার্সি থেকে বাদ যাওয়া হাইতির এই ইতিহাসই হাইতিকে মাঠে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে প্রেরণা দিবে।











