সকল কাজের কাজী হতে পারবেন হৃদয়?

যেদিন জয়ের জন্য ৩০ বলে ৫০ রানের মতো সমীকরণ সামনে আসবে, সেদিনও কি হৃদয় তাঁর খোলস ছেড়ে খুনে মেজাজে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরতে পারবেন?

দলের প্রয়োজনে কি দ্রুতগতির ইনিংস খেলতে পারবেন তাওহীদ হৃদয়? বাংলাদেশ দলে হৃদয় এখন পালন করেন অ্যাঙ্করের ভূমিকা। নিজের কাজটাও করে যাচ্ছেন বেশ দক্ষ হাতেই।  প্রশ্ন হলো, লো-স্কোরের দিনে তো ম্যাচ বের করছেন, কিন্তু লক্ষ্য যেদিন বড় হবে, সেদিন কি তিনি পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে পারবেন?

টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং হৃদয়ের মূল দায়িত্ব হলো খেলাটাকে একদম গভীরে নিয়ে যাওয়া। তাঁরা উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রাখবেন, যেন বাকি ব্যাটাররা এসে কোনো চাপ ছাড়াই চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটাতে পারেন। সৌম্য সরকার কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতদের হাত খুলে খেলার লাইসেন্স দিতেই মূলত হৃদয়কে এই রক্ষণাত্মক ভূমিকা দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টিভেজা দ্বিতীয় ম্যাচে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্যে ১৪৪ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পর পর আউট হয়ে গেছেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত, বেশিক্ষণ ক্রিজে ছিলেন না মোসাদ্দেক হোসেনও। উইকেটে হৃদয় ছাড়া তখন আর কোনো স্বীকৃত ব্যাটার ছিল না। ফলে, পুরো দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপরই। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ৫৫ বলে হার না মানা ৪০ রানের এক ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি।

প্রথম ম্যাচেও হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দেখা গেছে, যেখানে পরিস্থিতি বুঝে তিনি খেলেছেন ৫১ বলে ৩১ রানের ইনিংস। তবে প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। যেদিন জয়ের জন্য ৩০ বলে ৫০ রানের মতো সমীকরণ সামনে আসবে, সেদিনও কি হৃদয় তাঁর খোলস ছেড়ে খুনে মেজাজে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরতে পারবেন?

এই কঠিন অগ্নিপরীক্ষা এবং নিজেকে প্রমাণ করার জন্য সামনে থাকা তৃতীয় ম্যাচটি হতে পারে সেরা এক মঞ্চ। এরই মাঝে সিরিজ জিতে যাওয়া বাংলাদেশের হয়ে হৃদয় চাইলেই খেলতে পারেন সাম্প্রতিক রূপের বাইরে গিয়ে। আর সেটা করতে পারলেই প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যাবে হৃদয়ের, যিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে খেলার সক্ষমতা রাখেন। 

স্বল্প রানের কম চাপের ম্যাচে নিজের কাজটা বেশ ভালোভাবেই করে যেতে পারছেন হৃদয়। কিন্তু, আসল পরীক্ষা হবে তখন যখন তাঁকে খেলবে হবে বড় লক্ষ্যকে সামনে রেখে। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে যে কাজ করা লাগতে পারে অহরহ। তাই, হৃদয়ের জন্য এখনই শ্রেষ্ঠ সময় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link