যে ভিনদেশির পায়ে মেক্সিকোর স্বপ্নের সূচনা!

দক্ষিণ আফ্রিকার জাল কাঁপিয়ে দিয়ে মেক্সিকোর জার্সিতে প্রথম গোলটা যিনি করলেন, তিনি মেক্সিকান নন। তাঁর জন্মটা কলম্বিয়ায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার জাল কাঁপিয়ে দিয়ে মেক্সিকোর জার্সিতে প্রথম গোলটা যিনি করলেন, তিনি মেক্সিকান নন। তাঁর জন্মটা কলম্বিয়ায়। তবে স্বপ্নের বিশ্বকাপ মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেক্সিকোকে স্বপ্নটা ঠিকই দেখালেন হুলিয়ান কিনিওনেস।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র নয় মিনিট। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে বল কেড়ে নেয় মেক্সিকো। সুযোগটা আসে কিনিওনেসের সামনে, আর তিনি সেটাকে পরিণত করেন ইতিহাসে। দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে বল নিজের আয়ত্তে নিয়ে প্রোটিয়া গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরাস্ত করে জাল খুঁজে নেন এই উইঙ্গার। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আজতেকা স্টেডিয়াম, আর ২০২৬ বিশ্বকাপ পেয়ে যায় তার প্রথম গোলদাতাকে।

পুরো ম্যাচজুড়েই দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন কিনিওনেস। কখনো বাম প্রান্ত দিয়ে গতির ঝড় তুলেছেন, কখনো ভেতরে ঢুকে তৈরি করেছেন আক্রমণের নতুন পথ। বল ছাড়া তাঁর মুভমেন্ট আর প্রেসিংও ছিল চোখে পড়ার মতো। ভাগ্য সহায় হলে গোলসংখ্যা আরও বাড়তে পারত।

গোলের উদ্দেশে শট নিয়েছেন পাঁচখানা। জাল কাঁপাতে পেরেছেন ওই একবারই, তবে গোলবারে লেগে বল ফিরে না আসলে একের জায়গায় সংখ্যাটা অনায়াসেই দুই হতে পারত। তবে সেটা না হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডারদের এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তিতে থাকতে দেননি তিনি।

কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া কিনিওনেস দেশটির বয়সভিত্তিক দলেও খেলেছেন। তবে সেখানকার পাঠ চুকিয়ে মেক্সিকোতে নিজের পেশাদার ফুটবল যাত্রাটা শুরু করেন ২০১৬ সালে। নাগরিকত্ব নিয়ে স্বপ্ন বুনতে থাকেন মেক্সিকোর হয়ে খেলার।

অবশ্য অন্য দেশ থেকে উড়ে এসে এই দলটায় জুড়ে বসা কিনিওনেসকে নিয়ে বিতর্ক ছিল, কেউ তাঁকে সাদরে গ্রহণ করতে চায়নি। তবে নিজের দক্ষতায় ঠিকই সবটা নিজের করে নিয়েছেন এই উইঙ্গার।

কিনিওনেসের জন্য এই দিনটা তাই স্মৃতির পাতায় আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথম গোলদাতা হিসেবে আলোর রোশনাই যে তিনিই ছড়িয়েছেন প্রথমে। আজতেকা স্টেডিয়ামকে ভাসিয়েছেন আনন্দের জোয়ারে। এবার নিশ্চয়ই মেক্সিকানরা কিনিওনেসকে নিজেদের একজন বলেই মানবেন।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link