প্রথম ম্যাচে সব প্রথমের ইতিকথা!

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শুধু গোল আর রোমাঞ্চই নয়, বরং রচিত হলো নতুন এক ইতিহাসের পটভূমি।

ফুটবলের ধুলোমাখা সবুজ গালিচায় আজ বেজে উঠল মহারণের প্রথম বাঁশি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শুধু গোল আর রোমাঞ্চই নয়, বরং রচিত হলো নতুন এক ইতিহাসের পটভূমি। উদ্বোধনী দিনের প্রতিটি মুহূর্ত সাক্ষী থাকল এক উত্তাপপূর্ণ লড়াইয়ের।

​ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল দুই দল। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে রবার্তো আলভারাডোর নেওয়া বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক জানান দিচ্ছিল গোল আদায়ের জেদ। পরের মিনিটেই ব্রায়ান গুতেরেজের দুর্দান্ত একটি শট ব্লক হওয়ার মাধ্যমে এবারের আসরের প্রথম ‘ব্লকড অ্যাটেম্পট’ এর সাক্ষী হয় ফুটবল বিশ্ব।

​তবে গ্যালারির গর্জন সবচেয়ে বেশি জোরালো হয়ে ওঠে ম্যাচের নবম মিনিটে। হুলিয়ান কিনিওনেস পায়ে রচিত হয় এবারের বিশ্বকাপের প্রথম গোল। বলের জালে প্রথম চুম্বনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ স্বাগতিক গ্যালারিতে ছড়িয়ে দেয় বাঁধনহারা উন্মাদনা।

​গোল উৎসবের পরপরই ম্যাচে দেখা দেয় কিছুটা উত্তাপ। দশ মিনিটে রাউল হিমেনেজের হ্যান্ডবলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের প্রথম ‘নিয়মের বিচ্যুতি’ বা হ্যান্ডবলের ঘটনা ঘটে।

ম্যাচের উত্তেজনা যে কেবল আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণে সীমাবদ্ধ ছিল না, তার প্রমাণ মেলে ২৩ মিনিটে। ব্রায়ান গুতেরেজের এক ফাউলের জেরে রেফারি পকেট থেকে বের করেন এই আসরের প্রথম হলুদ কার্ড।

৫০ মিনিটে ইয়া ইয়া সিথোলের মাঠত্যাগের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট পায় প্রথম লাল কার্ডের স্বাদ, যা ম্যাচকে নতুন মোড় দেয়। মাঠের এই অস্থিরতার মধ্যেই ৬১ মিনিটে ম্যাচের প্রথম সাবস্টিটিউশন সম্পন্ন হয়। জয়ডেন অ্যাডামসের পরিবর্তে মাঠে নামেন থেম্বা জোয়ান।

সকল প্রথমের ভিড়ে শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর দাপটই ছিল আকাশচুম্বী। আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক এই দল। ফুটবলীয় শিল্পের এই অধ্যায় কেবল একটি জয় নয়, বরং এটি একটি মহাকাব্যের শুভসূচনা মাত্র।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link