ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত গোল কোনটি এই প্রশ্ন করলে উত্তর আসবে একটাই। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা সেই গোলটি। বিশ্বজুড়ে এই গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ নামেই পরিচিত। আজকের আয়োজনে আমরা জানবো সেই গোলের নামকরণের আসল রহস্য এবং এর পেছনের গল্প নিয়ে।
সেদিন ম্যাচ ফুটবলের আর কোনো সাধারণ ম্যাচের মতো ছিল না। এ ছিল ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের মাত্র চার বছর পরের এক রাজনৈতিক প্রতিশোধের মঞ্চ। মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও আজতেকায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল দুই দেশের এক প্রতীকী লড়াইয়ে।
খেলার ৫১তম মিনিটে শূন্যে ভাসানো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে গোলরক্ষক পিটার শিল্টনকে ফাঁকি দিয়ে ম্যারাডোনা তাঁর বাম হাত দিয়ে বলটি জালে জড়িয়ে দেন। ইংলিশ খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ জানালেও তিউনিসিয়ান রেফারি আলীর চোখে সেই ফাউলটি ধরা পড়েনি। সেই যুগে ভিডিও অ্যাসিস্যান্ট রেফারি (ভিএআর) না থাকায় বেঁচে যান ম্যারাডোনা।

ম্যাচ শেষে এই গোল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ম্যারাডোনা নিজেই এই ঐতিহাসিক নামের জন্ম দেন। তিনি বলেছিলেন, “গোলটি হয়েছিল খানিকটা আমার মাথা দিয়ে, আর খানিকটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে”। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন, এ ছিল ফকল্যান্ডস যুদ্ধের এক “প্রতীকী প্রতিশোধ”।
এই অবৈধ গোল সময়ের সাথে সাথে বিতর্ক ছাপিয়ে ম্যারাডোনার কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আইকনিক অধ্যায়ে পরিণত হয়। তৎকালীন মেক্সিকান গণমাধ্যম ম্যারাডোনার এই চাতুরিতে যেমন বিস্মিত হয়েছিল, তেমনই মুগ্ধ হয়েছিল তাঁর এমন অবিশ্বাস্য দুঃসাহস দেখে।
ফুটবল জগতে যত বিতর্ক আছে সেসবের মধ্যে এই গোলটি আসবে একেবারে সামনের সারিতে। যদিও এই গোল করার অল্প সময় পরেই ম্যারাডোনার পা থেকে দেখা গিয়েছিল বিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ গোলটির, কিন্তু, সেই কীর্তি ছাপিয়ে হাতের স্পর্শে দেওয়া গোলের কথাই বারবার সামনে আসে।











