ভোজিনহার ইচ্ছে পূরণ

বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেও তাই ভোজিনহার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্ত হতে যাচ্ছে ম্যাচ শেষে সেই এক আলিঙ্গন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ছেলের পাশে থাকছেন মা, অনেক জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে পূরণ হলো ভোজিনহার অপেক্ষা।

স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নেওয়ার পরও তাঁর চোখে ছিল অন্য এক আক্ষেপ—মা গ্যালারিতে নেই। ম্যাচ শেষে অঝোরে কেঁদেছেন। সেই আক্ষেপই এবার বদলে গেছে আনন্দে।

উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে যাচ্ছেন ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরা। ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে ছেলের খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে নায়ক বনে যান ভোজিনহা। কিন্তু ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে জানান, আর্থিক জটিলতার কারণে তাঁর মা বিশ্বকাপ দেখতে আসতে পারেননি।

সমস্যাটা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে। চলতি বছরের শুরুতে কেপ ভার্দেকে এমন একটি দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের নাগরিকদের ভিসা ফি ছাড়াও বড় অঙ্কের ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে হয়। অতিরিক্ত সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি ভোজিনহার পরিবারের পক্ষে। ফলে সময়মতো ভিসা পাননি তাঁর মা।

ভোজিনহার সেই কষ্টের কথা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। এরপরই শুরু হয় নানা পর্যায়ের উদ্যোগ। অবশেষে সুখবর আসে। আনা ক্যান্ডিদা এভোরার ভিসা অনুমোদন হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস।

তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকার, ফিফা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একসঙ্গে কাজ করায় দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে। আর ছেলেকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার আবেগ লুকাতে পারেননি ভোজিনহার মা।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, সবকিছু খুব দ্রুত হচ্ছে। আমি সত্যিই খুব খুশি। ঈশ্বর চাইলে আমি বিশ্বকাপে আমার ছেলেকে খেলতে দেখব। আমি ওকে সমর্থন দিতে যাচ্ছি, সাহস আর শক্তি দিতে চাই। ম্যাচ শেষে ওকে জড়িয়ে ধরব।’

বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেও তাই ভোজিনহার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্ত হতে যাচ্ছে ম্যাচ শেষে সেই এক আলিঙ্গন।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link