অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ, অবিশ্বাস্য ইংল্যান্ড! তাদের আক্রমণের সাবলীলতা যেমন রোমাঞ্চকর তেমনই চোখ ধাঁধানো। ক্রোয়াশিয়ার গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ যতটা সম্ভব সেভ করেছেন,ডিফেন্ডাররা যতটা সম্ভব শরীর ছুঁড়ে বল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তবুও চারবার বল জালে পাঠিয়েছে ইংলিশরা। ক্রোয়েশিয়াও যতটুকু আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে। তবুও দুই দলের মানের ব্যবধানটা যে বিশাল।
শুরুতে অবশ্য হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। মনে হচ্ছিল ইংলিশদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে ম্যাচ। কিন্তু ৩৬ মিনিটে মার্তিন বাতুরিনার দুর্দান্ত গোল বদলে দেয় দৃশ্যপট। ক্রোয়েশিয়া ফিরল সমতায়, আর ম্যাচ পেল নতুন প্রাণ।
তবে ইংল্যান্ডও থেমে থাকার পাত্র নয়। কিছুক্ষণ পরই আবার হাজির কেইন। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দিলেন তিনি। কিন্তু এই ম্যাচে কোনো লিডই নিরাপদ ছিল না। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেতার মুসার গোলে আবারও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ড দুইবার এগিয়েছে, ক্রোয়েশিয়া দুইবারই শোধ তুলেছে। প্রথমার্ধটা যে দুই পক্ষেরই আসন দখলের সমান লড়াই।

২-২ সমতায় শেষ হওয়া প্রথমার্ধই বলে দিচ্ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় কিছু অপেক্ষা করছে। ৪৭ মিনিটে জুড বেলিংহামের গোল ইংল্যান্ডকে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে দেয়।এরপর ম্যাচের ছন্দটা পুরোপুরি ইংল্যান্ডের দখলে চলে যায়। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের গতি আর একের পর এক সুযোগ সৃষ্টি করে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে চাপে রাখে তারা। তবে ক্রোয়েশিয়াও সুযোগ পেলেই পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টা করেছে।
ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক বারবার দলের রক্ষাকর্তা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একের পর এক শট ঠেকিয়েছেন তিনি। ডিফেন্ডাররাও নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক প্রবাহ থামানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচ যত শেষের দিকে এগিয়েছে, ইংল্যান্ডের তীব্রতা ততই বেড়েছে। সাধারণত দলগুলো তখন লিড ধরে রাখার চিন্তা করে, কিন্তু ইংল্যান্ড যেন আরও গোলের খোঁজে নেমেছিল। সেই চেষ্টার ফল আসে ৮৫ মিনিটে। বদলি হিসেবে নামা মার্কাস রাশফোর্ড গোল করে ইংলিশদের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন।

ওখানেই কার্যত ছিটকে যায় ক্রোয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়া সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছে, দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধার, অবিশ্বাস্য প্রেসিং আর উচ্চমানের ফুটবলের সামনে টিকে থাকা সম্ভব হয়নি।










