রোনালদোর সময় ফুরিয়েছে!

ডিআর কঙ্গোর ডিফেন্স যেন রোনালদোর কাছে প্রাচীর হয়ে দাঁড়াল। সেই সুর নেই পায়ে, টাচে নেই তাল, দৌড়ে মেলে না ছন্দ, এ যেন আর রোনালদো নয়, তাঁর রেপ্লিকা।

সবকিছুরই তো একটা শেষ আছে। চিরায়িত নিয়মকে উপেক্ষা করার সাধ্য কি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আছে? গোধূলির রঙ মিলিয়ে যাওয়ার আগে যে স্বপ্ন দেখাতে এসেছিলেন, শেষ নাচটা যেভাবে দিতে চেয়েছেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটাই যেন সব ফিকে করে দিল। সেই সাথে একটা নির্মম প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠল, এই রোনালদো একাদশে থাকার যোগ্য তো?

বয়সটা এখন ৪১। স্বাভাবিকভাবেই এই বয়সের অনেক খেলোয়াড়ই নিজের পুটলি গুছিয়ে বিদায় নেন মঞ্চ থেকে। রোনালদো বোধহয় অলীক স্বপ্নটা ছুঁতে চাইলেন, একরোখা জেদকে পুঁজি করেই বিশ্বমঞ্চে হাজির হলেন। তবে বয়সের সাথে কি আর পাল্লা দেওয়া মানুষের চলে?

ডিআর কঙ্গোর ডিফেন্স যেন রোনালদোর কাছে প্রাচীর হয়ে দাঁড়াল। সেই সুর নেই পায়ে, টাচে নেই তাল, দৌড়ে মেলে না ছন্দ, এ যেন আর রোনালদো নয়, তাঁর রেপ্লিকা।

পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকেছেন। তিনটা শট নিয়েছেন যার একটাও অন টার্গেট না। নির্জীব দাঁড়িয়ে থেকেছেন, যেন অলস কোনো মূর্তি। অথচ বছর দশেক আগের রোনালদো হলে হয়তো অনায়াসেই দুই গোল আদায় করে ফেলতে পারতেন।

রোনালদোর জন্য এখন দুটো পথ খোলা। পর্তুগালের সামনে একটি। রোনালদোর উচিত সময়ের কাছে হার মেনে নেওয়া, ৯০ মিনিটের বদলে মাঠে থাকার সময়টা ২৫-৩০ মিনিট করে আনা। আর একটা পথ বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া রোনালদোকে আবারও শক্ত করে তোলে, যেটা রীতিমতো দিবাস্বপ্নই। পর্তুগালকে তাই বেছে নিতে হবে তারা রোনালদোকে বিদায় দেওয়ার জন্য বিশ্বকাপ খেলবে নাকি বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলার জন্য।

সবসময় জেদ দিয়ে সব জেতা যায় না। সবসময় চরম ইচ্ছেশক্তি থাকলেও উঠে দাঁড়ানো সম্ভব না। এসবই প্রকৃতির আদিম নিয়ম, এটাকে অস্বীকার করবেন কিভাবে? প্রতিপক্ষের কাছে হারার আগে এখন রোনালদোর উচিত সময়ের কাছে হার মেনে নেওয়া।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link