দুই আসর পরে বিশ্বকাপে ফিরে পানামার পয়েন্ট পাওয়ার স্বপ্নটা ছিল একদম নাগালেই। মাঠের দাপট, বলের নিয়ন্ত্রণ কিংবা আক্রমণের সংখ্যা সবকিছুতেই তারা ছিল এগিয়ে। কিন্তু এডেড টাইমের একদম শেষ মুহূর্তে গোল দিয়ে ১-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতল ঘানা।
কানাডার টরেন্টো স্টেডিয়ামে ম্যাচের উত্তাপ তখন চরমে। রেফারির শেষ বাঁশির অপেক্ষায় যখন সবাই, তখনই ছন্দপতন ঘটে পানামার। ব্র্যান্ডন থমাস আসান্তের বাড়ানো নিখুঁত পাসে গোল করে ঘানাকে জয় উপহার দেন কালেব ইয়েরেঙ্কি।
এই একটি মুহূর্তেই পানামার দীর্ঘ প্রতীক্ষার বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। অথচ পুরো ম্যাচে ৬২ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের পায়ে। ১১টি শট নিয়ে তারা ঘানাকে কোণঠাসা করে রাখলেও, ঘানার রক্ষণভাগ এবং বদলি গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারের বীরত্বে কোনো কিছুই কাজে আসেনি।

ম্যাচটি ঘানার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তা বোঝা যায় দলের মূল গোলকিপার আতি জিগির প্রথমার্ধে ইনজুরিতে পড়ার ঘটনায়। সংঘর্ষে আহত হয়ে তাকে হাফটাইমে মাঠ ছাড়তে হয়।
তার বদলে নামা বেঞ্জামিন আসারে দ্বিতীয়ার্ধে পানামার আক্রমণভাগের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। শেষ ৪৫ মিনিটে অন্তত তিনটি অবিশ্বাস্য সেভ দিয়ে তিনি ঘানাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই সিসিলিও ওয়াটারম্যানের একটি জোরালো শট গোলমুখে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু আতি জিগি তখন দক্ষতার সাথে তা ফিরিয়ে দেন। এরপর থেকে পানামা আক্রমণ শানাতে থাকলেও শেষ মুহূর্তের সেই বিপর্যয় তাদের আর ঘুরে দাঁড়াতে দেয়নি।

পুরো ম্যাচ দাপিয়ে বেড়িয়েও এক মুহূর্তের ভুলে হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো পানামাকে। অন্যদিকে, পরিসংখ্যানের তোয়াক্কা না করে সুযোগ কাজে লাগিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট ঘরে তুলল ঘানা।











