হাফডজন গোল, দারুণ এক হ্যাটট্রিক, দুই-দুইটা লাল কার্ড; বিশ্বকাপ ফুটবলের এক ম্যাচেই এত কিছু দেখার ভাগ্য হলো দর্শকদের। গত আসরের স্বাগতিক কাতারকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে, বিশাল বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো কানাডা।
ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা কানাডা ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত রাখে কাতারকে। তার ফলও পেয়ে যায় হাতেনাতে। গোলরক্ষকের গ্লাভস থেকে ছিটকে আসা বল জালে জড়িয়ে শুভসূচনা করেন কাইল লারিন। তবে, প্রথম গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা কাজে দেয়নি কাতারের জন্যে। বরং, ২৯ মিনিটে দারুণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কানাডার জোনাথন ডেভিড।
২-০ গোলে পিছিয়েও বিপদ যেন পিছু হটছিলো না কাতারের। শক্ত ট্যাকলের কারণে ৩৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় হোমাম আহমেদকে। কাতার পরিণত হয় দশজনের দলে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দশজনের কাতারের জালে আবার বল জড়ান জোনাথন ডেভিড। স্কোরলাইন নিয়ে যান ৩-০ তে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র নয় মিনিটের মাথায় আবার ধাক্কা খায় কাতার। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ট্যাকল করতে গিয়ে আসিম মাদিবো লাল কার্ড দেখেন। কাতার এবার দশ থেকে নেমে হয় নয় জনের দল। এরই অল্প সময় পরে, ৬৪ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে দারুণ গোল করেন নাথান সালিবা।
বিপদ যেন কাটছিল না কাতারের জন্যে। কানাডার আক্রমণে দিশেহারা হতে হতে নিজেরাই বড় করে পরাজয়ের ব্যবধান। জ্যাকব শ্যাফলবার্গের নেওয়া আলতো শটে পা দিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়ান মোহাম্মদ মানাই। এখানেই শেষ হয়ে গেলে ভালো হতো। কিন্তু, নয় জনের কাতারের কপালে শেষ পেরেক ঠুকেন জোনাথন ডেভিড। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে পা পায়ের আলতো শটে পূরণ করে নেন নিজের হ্যাটট্রিক।
আগের ম্যাচে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল এক পয়েন্ট নিয়ে। তবে, কাতারকে প্রতিপক্ষ পেয়ে আর সেদিকে গেল না কানাডা। গুণে গুণে ছয় গোল দেওয়ার সাথে নিয়ে নিল তিন পয়েন্ট। আর, এক পা বাড়িয়ে রাখলো নক আউটের পথে।











