প্রথম ৪৫ মিনিটে যেখানে একটি গোলও দেখা যায়নি, সেখানে দ্বিতীয়ার্ধে দেখা গেল গোলের মেলা। লাল কার্ড পায়ে দশ জনের দল হয়ে যাওয়া বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে হারতে হলো ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। আর, বড় এই জয়ে নকআউটের পথে অনেকটাই পা বাড়িয়ে রাখলো সুইজারল্যান্ড।
প্রথমার্ধের পুরো সময় ধরেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে রেখেছিল সুইজারল্যান্ড। বল পায়ে রেখে ধীরে ধীরে বসনিয়ার বক্সের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল আক্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে। কিন্তু, সেগুলোর সবটুকুই বাতিল হয়ে গেছে বসনিয়ার গোলরক্ষক আর রক্ষণভাগের সামনে।
তবে, চিত্র বদলে যায় ৭৪ মিনিটে। দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন বিরতির পর যেন নিজেদের নতুন রূপে খুঁজে পায় সুইজারল্যান্ড। ডি-বক্সের ভেতর থেকে ডানপায়ে জোরালো শটে বসনিয়ার গোলরক্ষককে ফাঁকি দেন জোহান মানজাম্বি। মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বদলি হিসেবে নেমেই দলের ভাগ্য বদলে দেন এই মিডফিল্ডার।

গোল দিলেও শান্ত হয়ে থাকেনি সুইজারল্যান্ড। ৭৯ মিনিটে এক আক্রমণের মুখে সুইস ফুটবলারকে শক্ত ট্যাকেল করে ফেলে দেন তারিক মোহারেমোভিজ। গোল হওয়ার সম্ভাবনা থামিয়ে দেওয়ার জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বসনিয়ার এই ডিফেন্ডারকে।
দশ জনের বসনিয়ার জন্যে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। মোহারেমোভিজ মাঠ ছাড়াই মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ডি-বক্সে অনেকখানি জায়গা ফাঁকা অনেক দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ তে নিয়ে যান রুবেন ভার্গাস। ৯০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বসনিয়ার জয়ের সব আশা কেড়ে নেন মানজাম্বি।
বসনিয়া পিছিয়ে পড়ে অগোছালো খেলতে খেলতেই অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুইজারল্যান্ডের জালে এক গোল দেন এরমিন মাহমিচ। ৩-১ স্কোরলাইন নিয়ে যেখানে মাঠ ছাড়বে ভেবেছিল বসনিয়া, সেখানে স্বপ্নভঙ্গের শিকার হতে হয় তাদের। চার মিনিট পরেই দারুণ গোলে ব্যবধানে ৪-১-এ নিয়ে যান সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা।

আগের ম্যাচে শেষ সময়ের ভুলে কাতারের সাথে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড। এমনকি বসনিয়ার কাছেও প্রথমার্ধে রুখে যেতে হয়েছিল। কিন্তু, শেষ ২৫ মিনিটেই চার গোল দিয়ে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো দলটি। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে সুইজারল্যান্ড নিজেদের নিয়ে গেল বি গ্রুপের শীর্ষস্থানে।










