ব্যক্তিগত লোভের বলি দেশের ক্রিকেট?

ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে টেস্ট ক্রিকেটের মানচিত্রে তুলে ধরেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গোটা দলকে। সেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখন আইসিসিতে চিঠি লিখছেন বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করতে।

ইতিহাস এর চেয়ে নিষ্ঠুর পরিহাস বোধ হয় কমই রচনা করে। এত অর্জনের খাতায় যার নাম, সেই বুলবুলকেই কেন নামতে হল এত নিচে?

২০০০ সালে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টে আমিনুলের ব্যাট থেকেই এসেছিল দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। সেই ইনিংস ছিল কেবল রানের হিসাব নয়, একটি জাতির ক্রিকেটীয় আত্মপ্রকাশের দলিল। আর ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তেও দলের হাল ধরেছিলেন তিনিই।

সেই মানুষটিই এখন আইসিসিকে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করতে, আইসিসির তহবিল বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে দলকে বাদ দিতে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গত এপ্রিলে তার নেতৃত্বাধীন বিসিবি বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই নিজেকে ‘বৈধ সভাপতি’ দাবি করে আসছেন আমিনুল। আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, ৭ জুনের বিসিবি নির্বাচন আইসিসির সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিসিবির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আইসিসিকে।

চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসার পর এক ভিডিও বার্তায় আমিনুল পুরো বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে চিঠির একাধিক অংশ এবং তার স্বাক্ষরসহ দলিল ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেছে।

ব্যক্তিগত ক্ষমতার লড়াইয়ে একজন মানুষ দেশের ক্রিকেটকেই জিম্মি করতে চাইছেন — এই অভিযোগ এখন জোরালো হচ্ছে। যে বাংলাদেশকে তিনি একদিন ব্যাট হাতে গড়েছিলেন, আজ সেই বাংলাদেশকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছিটকে দেওয়ার আবেদন তার কলম থেকে — ইতিহাস এই অধ্যায় কোথায় রাখবে, সময়ই বলবে।

তবে এটুকু বলা যায়, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের জন্য সেই ইতিহাস মোটেও ইতিবাচক হবে না।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link