পেনাল্টির অসীম মূল্য!

শেষ মুহূর্তে যে পেনাল্টি সেনেগালের স্বপ্ন দিখণ্ডিত করে দিল, সেটা কি আদৌ সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল? নিয়মের খাতায় হয়তো। তবে নিয়ম কি সবসময় সময়কেও ছাপিয়ে যেতে পারে?

পেনাল্টি ইট ইজ, বাট অ্যাট হোয়াট কস্ট? শেষ মুহূর্তে যে পেনাল্টি সেনেগালের স্বপ্ন দিখণ্ডিত করে দিল, সেটা কি আদৌ সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল? নিয়মের খাতায় হয়তো। তবে নিয়ম কি সবসময় সময়কেও ছাপিয়ে যেতে পারে?

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ, নির্ধারিত সময় ছাপিয়ে গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও শেষ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে। সবাই টাইব্রেকারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময়ে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তই যে কারও জন্য বেদনাদায়ক।

ঘटनাটি ছিল সেনেগালের বক্সের ভেতরে। ইউরি টিলেমান্স বলের দিকে এগোচ্ছিলেন। লামিন কামারা বলের জন্যই চ্যালেঞ্জে যান। দুজনের মধ্যে সংস্পর্শ হয়, টিলেমান্স মাটিতে পড়ে যান। প্রথমে রেফারি খেলতে বলেন। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ের পর বদলে যায় সিদ্ধান্ত। মনিটরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি।

এখান থেকেই শুরু হয়েছে আসল বিতর্ক। হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে দুজনের মাঝে একটা সংস্পর্শ ছিল। কিন্তু ফুটবলের নিয়মে ওই সময়ে এসে বক্সের ভেতরের সংস্পর্শই কি পেনাল্টি? সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হচ্ছে, সেই স্পর্শ কি সত্যিই টিলেমান্সকে শট নেওয়া থেকে বঞ্চিত করেছিল? নাকি তিনি এমনিতেই বলের নাগাল হারাচ্ছিলেন?

আরেকটি প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। টিলেমান্স কি নিজেই বল মিস করেছিলেন, নাকি কামারার চ্যালেঞ্জের কারণেই বল মিস করতে বাধ্য হয়েছেন? এই দুই প্রশ্নের উত্তরই আসলে পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

একভাবে বললে কামারার সংস্পর্শ টিলেমান্সের ভারসাম্য নষ্ট করেছে। ফলে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে বলে খেলতে পারেননি। সে হিসেবে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত সঠিক।

অন্যদিকে যুক্তি, টিলেমান্স তখনও বল পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। সংস্পর্শ ছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি গোল করার সুযোগ নষ্ট করার মতো পর্যাপ্ত ছিল না। তাই এমন মুহূর্তে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করে সিদ্ধান্ত বদলানো উচিত হয়নি। দিনশেষে সঠিক-ভুলের হিসাব ছাপিয়ে সেনেগালের অশ্রুসিক্ত বিদায় আসলে ফুটবলভক্তদের কাছে এক নির্মম সত্য হয়ে থাকল।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link