প্রথম ওভারে এলেন, আর উইকেট তুললেন। অভিষেকেই উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন হাসান মাহমুদ। ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি আসর ভাইটালিটি ব্লাস্টে পা রেখেই আলো ছড়ালেন বল হাতে। দিনশেষে তাঁর দল কেন্ট হেরেছে ঠিকই, তবে দলের ব্যর্থতার আকাশে জ্বলজ্বল করছেন হাসান।
নতুন বলে তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই ধাক্কা খায় হ্যাম্পশায়ার। কেন্টের অধিনায়ক দ্বিতীয় ওভারেই বল তুলে দেন হাসানের হাতে। প্রথম পাঁচ বলেই তিনি দেন মাত্র চার রান। এরপর ওভারের শেষ বলটি ছিল একেবারে পাঠ্যবইয়ের ইয়র্কার। সেই বলের কোনো উত্তরই খুঁজে পাননি টবি অ্যালবার্ট। দেশের বাইরের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই ছিল হাসান মাহমুদের প্রথম উইকেট, আর সেটিও এসেছে অভিষেক ওভারের শেষ বলেই।
এরপর অবশ্য হ্যাম্পশায়ারের অভিজ্ঞ ব্যাটার জেমস ভিন্স কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। হাসানের দ্বিতীয় ওভারে দুটি চারে ১১ রান তুলে নেন তিনি। একটু ব্যয়বহুল হলেও নিজের ছন্দ হারাননি হাসান। বরং পরের দুই স্পেলে আরও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে নিজের জাত চেনান।

১১ ওভার শেষে হ্যাম্পশায়ার রান তুলেছে ১১২। উইকেট সেই একটাই। লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছুটছে রানের চাকা। সেই সময় এলেন হাসান মাহমুদ। দিলেন মোটে চার রান। উইকেটের দেখা না পেলেও তাঁর সৃষ্টি করা চাপটা প্রতিপক্ষের ঘাড়ে চেপে বসে। যার ফলাফল, পরের ওভারেই উইকেট তুলে নেয় কেন্ট।
তখনও আরও একটা ওভার তাঁর বাকি। ডেথ ওভারে দায়িত্ব ঘাড়ে নিলেন। সেখানেও প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের লাগাম টেনে রাখলেন। খরচ হলো মাত্র ছয় রান। একটা সময় মনে হচ্ছিল হ্যাম্পশায়ার বুঝি ছুঁয়ে ফেলবে ২২০-২৩০ রানের গণ্ডি। সেটাই শেষমেশ গিয়ে ঠেকল ১৯০ রানে।
চার ওভার শেষে হাসানের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় এক উইকেটে ২৫ রান। ইকোনমি মাত্র ৬.২৫। পুরো স্পেলে তিনি হজম করেছেন মাত্র দুটি বাউন্ডারি। যেখানে অন্য বোলাররা হ্যাম্পশায়ারের ব্যাটারদের সামনে নিয়মিত চাপে পড়েছেন, সেখানে হাসান ছিলেন কেন্টের বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ।

তবে ব্যক্তিগত সাফল্য দলের জন্য সুখকর ফল এনে দিতে পারেনি। দল হেরেছে ১৯ রানের ব্যবধানে। অবশ্য তাঁর আগে নিজের কার্যকারিতার প্রমাণ দিতে কোনো ভুল করেননি বাংলাদেশের এই পেসার।










