২৮ বছর। একের পর এক অপূর্ণতার মিছিল। ইতিহাস মোটেও তাকাচ্ছিল না মুখ ফিরে। ঠিক এই পর্যায়ে এল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। পুনর্জাগরণের গল্প লিখল দলটা। নাম নরওয়ে।
ফুটবলে একসময় নরওয়ে ছিল ‘অলমোস্ট টিম’। জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার বহু নজির ছিল ‘ভাইকিংস’দের। কিন্তু এবার সেই পরিচয় বদলে গেছে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইউরোপের দেশটি। কীভাবে এই পুনর্জাগরণ ঘটলো দলটির? জেনে নেওয়া যাক।
উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হয় সাবেক নরওয়েজিয়ান ফুটবলার মর্টেন গামস্ট পেডারসেনের কথায়। টানা তিনটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থতার তিক্ত স্মৃতি আছে তাঁর। তাই এবারের সাফল্য তাঁর কাছে শুধু ফল নয়, একটি দীর্ঘ যাত্রার পরিণতি।

তাঁর ভাষায়, এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ঐক্য। আর্লিং হাল্যান্ড বিশ্বতারকা। মার্টিন ওডেগার্ড কিংবা আলেকজান্ডার সোরলথও বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। তবু কেউ দলের চেয়ে বড় নয়। মাঠে তাদের ফুটবল যেমন প্রাণবন্ত, মাঠের বাইরের সম্পর্কও তেমনই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ যাত্রাও তাই যেন তাদের কাছে স্রেফ বন্ধুদের এক আনন্দভ্রমণ। আর খেলায় তারা নিবেদিতপ্রাণ সংহতি ও দৃঢ়তায়।
এই দৃঢ়তার হাওয়ায় ছেঁয়ে গেছে গোটা নরওয়ে। এবারের আসরে ম্যাচ জয়ের পর দলটির ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন এখন শুধু গ্যালারির দৃশ্য নয়। শিশু, প্রবীণ, সেনাসদস্য, এমনকি রাজপরিবারও এতে শামিল হচ্ছে। ফুটবল রূপায়িত হচ্ছে জাতীয় উৎসবের ভাষায়। গড়ে তুলছে অমোঘ সংস্কৃতি।
তবে এই সাফল্য হঠাৎ আসেনি। দুই দশক ধরে পরিকল্পিত বিনিয়োগ করেছে নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন। ছয় বছর বয়স থেকেই নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলেছে তারা। ধাপে ধাপে কৌশলগতভাবে দক্ষ করে তুলেছে খেলোয়াড়দের। হাজারো প্রশিক্ষিত কোচকে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে নিরেট প্রতিভা খোঁজার করার জাতীয় নেটওয়ার্ক।

নরওয়ের ফুটবল দর্শনে ঘটা এই বিবর্তন রক্ষণাত্মক মানসিকতা ছেড়ে আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী কৌশল বেছে নিতে সাহায্য করেছে খেলোয়াড়দের। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে সামনে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। তবু নরওয়ে নিজেদের ‘অলমোস্ট টিম’ তকমা ঝেড়ে ফেলে পুনর্জাগরণের গল্প অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।










