ইংলিশ ফুটবলে কেনের উত্থান যেভাবে

ভাবুন তো, ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা যদি স্ট্রাইকার না হয়ে গোলরক্ষকই থেকে যেতেন? শুনতে অবাক লাগলেও, ছোটবেলায় এখনকার অন্যতম সেরা ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেনের প্রথম পরিচয় ছিল গোলপোস্টের নিচে।

ভাবুন তো, ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা যদি স্ট্রাইকার না হয়ে গোলরক্ষকই থেকে যেতেন? শুনতে অবাক লাগলেও, ছোটবেলায় এখনকার অন্যতম সেরা ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেনের প্রথম পরিচয় ছিল গোলপোস্টের নিচে। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এক অসম্ভব গল্প।

মাত্র ছয় বছর বয়সে রিজওয়ে রোভার্সে প্রথম অনুশীলনে কোচ ডেভ ব্রিকনেল তাকে গোলকিপার হিসেবে দেখেছিলেন। তার মাঝে ছিল অদম্য সাহস। গোলকিপার হিসেবে গড়পড়তা পারফরম্যান্স করলেও পরে অবশ্য সবাই বুঝে যায়: পোস্টের নিচে নয়, পোস্টের ভেতর বল পাঠানোর জন্যই জন্ম কেনের। প্রথম মৌসুমেই রিজওয়ের হয়প ৪০টির বেশি গোল করেন কেন।

এরপরও তার পথ তেমন মসৃণ হয়নি। আর্সেনালের স্কাউট স্টিভ লিওনার্ড শিশু খেলোয়াড় কেনকে ছেড়ে দেন। কৈশোরে টটেনহ্যামও একবার বাদ দেয় তাকে। কিন্তু প্রত্যাখ্যান তাকে ভাঙতে পারেনি। বরং প্রতিবারই আরও শক্ত হয়েছেন তিনি। মনোযোগ দিয়েছেন রিজওয়ের খেলাতেই।

এরপর আসে দীর্ঘ লোন-জীবন। অনিশ্চয়তা। অপেক্ষা। রিজওয়ে থেকে ধারে নানা ইংলিশ ক্লাবে খেলতে পাঠানো হয় তাকে। এর মধ্যে ওয়াটফোর্ডের হয়ে খেলতে গিয়ে টটেনহ্যামের বিপক্ষে গোল করেই প্রথম নজরে আসেন তিনি।

এদিকে ২০১৩ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও তিনি অংশ নেন সাধারণ এক প্রতিভা হিসেবে। তখন খুব কম মানুষই ভাবতে পেরেছিলেন, এই তরুণই একদিন ইংল্যান্ড ফুটবলের মুখ হয়ে উঠবেন।

তার গল্পের মোড় ঘোরে মূলত টটেনহ্যামে কোচ মৌরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে। কঠোর অনুশীলন, ফিটনেসে আমূল পরিবর্তন আসে তার। নিজের জীবনযাপনও বদলে ফেলেন কেন। অনুশীলনে সবার আগে আসা, সবার শেষে ফেরা হয়ে ওঠে তার অভ্যাস। পরিশ্রমই তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র বনে যায়। টটেনহ্যামের মূল দলে ঝলক দেখাতে শুরু করেন কেন।

ইংল্যান্ড জাতীয় দলে গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে সেই পরিশ্রমের পূর্ণ স্বীকৃতি মেলে। স্ট্রাইকার কোচ অ্যালান রাসেলের চোখে কেন কেবল ভদ্র মানুষ নন, তিনি নির্মম একজন গোলশিকারি। মাঠে সুযোগ দেখলে তার কোনো আবেগ নয়, কাজ করে শুধু লক্ষ্যভেদ করার মানসিকতা।

৩৩-এ পা দেওয়ার আগমুহূর্তেও সেই ক্ষুধা কমেনি তার। ২০২৬ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে তিনি ছুঁয়েছেন নিজের ২০১৮ সালের রেকর্ড। ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের জার্সিতে গ্যারি লিনেকারের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাও। ইউরোপের সেরা ক্লাবদের একটি বায়ার্ন মিউনিখেও ধরে রেখেছেন অনবদ্য পারফরম্যান্স।

হ্যারি কেনের গল্প শুধু গোলের নয়। এটি প্রত্যাখ্যানকে শক্তিতে বদলে দেওয়ার গল্প। অধ্যবসায়ের গল্প। আর বিশ্বাসের গল্প, যেখানে এক সময়ের সম্ভাব্য গোলকিপারই হয়ে ওঠেন ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link