একটি বিশ্বকাপ। অসংখ্য সিনেমার মতো গল্প। শেষ মুহূর্তের গোল। অসম্ভব প্রত্যাবর্তন। তারকাদের গোলযুদ্ধ। চলমান ৪৮ দলের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের চেনা দৃশ্যগুলো এমনই। তাই ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন শুধু একটা প্রশ্নই দুলছে: এটাই কি ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ?
উত্তরটা চূড়ান্তভাবে দেওয়া এই মুহূর্তেই সম্ভব নয়। কেননা বিশ্বকাপের ট্রফি এখনও ওঠেনি যোগ্য টিমের হাতে। তবু মাঠের গল্প বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই ইতিহাসের পাতায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে।
এবারের আসরে গোল যেন থামতেই জানে না। প্রায় প্রতিটা ম্যাচের গতি আক্রমণাত্মক। ওপেন প্লে থেকেই এসেছে বেশির ভাগ গোল। সঙ্গে পূর্বের আসরগুলোর তুলনায় নাটকীয়তাও বেশ বেড়েছে শেষ বাঁশির আগমুহূর্তে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে একের পর এক ম্যাচের ভাগ্য বদলেছে ৮৫ মিনিটের পর। যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলের সংখ্যাও এবারের বিশ্বকাপের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আর প্রত্যাবর্তনের গল্প? সেটিও অবিশ্বাস্য। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ৩২-এ জিতেছে বেলজিয়াম। একই কীর্তি গড়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিশরের বিপক্ষে। ইংল্যান্ড আবার প্রায় ৪০ মিনিট ১০ জন নিয়ে লড়ে তুলে নিয়েছে স্মরণীয় জয়। যেন প্রতিটি ম্যাচ ভিন্ন ভিন্ন চিত্রনাট্য।
একইসঙ্গে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াইও। ৮ গোল নিয়ে সামনে আছেন লিওনেল মেসি। ঠিক পেছনেই কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হাল্যান্ড। দুজনেরই ৭ গোল। হ্যারি কেইনও আছেন ৬ গোল নিয়ে সেরাদের দৌঁড়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম একই আসরে তিন ফুটবলারের ছয় বা তার বেশি গোলের কীর্তি তুমুল উন্মাদনা জোগাচ্ছে।
গোলরক্ষকেরাও সমানে দ্যুতি ছড়াতে পিছিয়ে নেই এবার। পাঁচ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখা স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন, নবাগত কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা, প্যারাগুয়ের তরুণ গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল কিংবা ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ জর্ডান পিকফোর্ড বারবার খেলার সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন অসাধারণ সব সেভ করে।

এরপরও কোনো গল্পই নিখুঁত হয় না। তাই বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চ মূল্য, বিতর্কিত রেফারিং এবং কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে দেশটির ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহারের মতো ঘটনার পরও ম্যাচগুলোতে গ্যালারি ভরেছে দর্শকে। স্টেডিয়াম কেঁপেছে উচ্ছ্বাসে। মাঠ উপহার দিয়েছে অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
বিশ্বকাপের ফাইনালগুলো এখনও বাকি। ইতিহাস বলছে, একটি অসাধারণ ফাইনাল পুরো বিশ্বকাপের মূল্যায়ন বদলে দিতে পারে। তাই হয়তো সবচেয়ে বড় চিত্রনাট্যটি এখনও হয়নি মঞ্চস্থ। তবু সর্বকালের সেরা হওয়ার দাবিটা জোরালোভাবেই তুলে ধরছে এবারের বিশ্বকাপ।










