প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ বেন কারেনের জন্য খুবই প্রিয়। প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তুলে নিলেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাঁর ইনিংসে ভর করেই ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তুলেছে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শুরুটা ছিল জিম্বাবুয়ের জন্য হতাশার। মাত্র ৮ রানেই হারায় দুই ওপেনার, এরপর ৩২ রানেই পড়ে তৃতীয় উইকেট। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়ে তোলেন বেন কারেন।
বাঁহাতি ওপেনার কারেন ১৩৫ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার। শুরুতে ধৈর্য ধরে উইকেটে থিতু হয়ে পরে ধীরে ধীরে রান তোলার গতি বাড়ান। ওয়েসলি মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জুটি গড়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ভিত্তি তৈরি করেন। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। দুই ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের জুটিতে শেষ ১০ ওভারে আসে ৮৫ রান, যা জিম্বাবুয়ের সংগ্রহকে এনে দেয় লড়াই করার মতো উচ্চতা।

বাংলাদেশের হয়ে নতুন বলে দারুণ শুরু করেন তাসকিন আহমেদ। তিনি ফেরান ব্রায়ান বেনেট ও ইনোসেন্ট কাইয়াকে। এরপর নাহিদ রানা বোল্ড করেন অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকে। মাঝের ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ তুলে নেন ওয়েসলি মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজার গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। রিশাদ হোসেন শিকার করেন ক্লাইভ মাদান্দেকে। তবে পুরো ইনিংসজুড়ে কারেন ছিলেন অবিচল। বাংলাদেশি কোনো বোলারই তাকে ফিরিয়ে দিতে পারেননি।
এই সেঞ্চুরি বেন কারেনের সংক্ষিপ্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় অর্জন। মাত্র ১০টি ওয়ানডে খেলেই এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর পাশাপাশি রয়েছে তিনটি ফিফটি। অল্প সময়েই ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ওপেনারে পরিণত হয়েছেন তিনি।
ক্রিকেট যেন কারেন পরিবারের রক্তেই মিশে আছে। বেন কারেন জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার কেভিন কারেনের ছেলে। ইংল্যান্ডের দুই পরিচিত অলরাউন্ডার স্যাম কারেন ও টম কারেন তার ছোট ভাই। ইংল্যান্ডে বেড়ে উঠলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জিম্বাবুয়েকেই বেছে নিয়েছেন বেন। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিদান দিচ্ছেন একের পর এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে।

এখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ভর করছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ওপর। ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারলেই সিরিজে ফিরবে টাইগাররা। আর জিম্বাবুয়ের আশা, বেন কারেনের অনবদ্য সেঞ্চুরি তাদের এনে দেবে টানা আরেকটি জয়।











