আর্জেন্টিনা যখন সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য নীল-সাদা স্ট্রাইপড হোম জার্সির বদলে গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিল, তখন অনেক সমর্থকের মনেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, যে জার্সিকে এতদিন ‘অপয়া’ বলা হয়েছে, সেই জার্সিই কেন? অবশ্য ১৯৮৬ সালের ডিয়েগো ম্যারাডোনার অমর কীর্তিও তো এই জার্সি গায়েই। তবে কি? হ্যাঁ সেটাই হলো, এই জার্সির দুঃখ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে হারিয়েই ঘোচাল আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনাকে আটলান্টায় ফিরিয়ে আনলেন লিওনেল মেসি।
আর্জেন্টিনার এই গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সিকে ঘিরে ‘অপয়া’ তকমার পেছনে আছে দীর্ঘ ইতিহাস। শুরুটা ১৯৯০ বিশ্বকাপ ফাইনাল। নীল জার্সি পরেই পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরেছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল। ২০০২ সালে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ২০০৬ বিশ্বকাপ, আবারও সেই জার্মানি। কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে যায় পথচলা, আর গায়ে ছিল এই অ্যাওয়ে জার্সি। এরপর সেই অভিশপ্ত ২০১৪ ফাইনাল। এই নীল জার্সিই বহন করেছিল বেদনার ভার।

তাই তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যখন এই জার্সিটাই বেছে নেয় আর্জেন্টিনা, তখন আশঙ্কা জেগেছিল, কেন এই অপয়া, অভিশপ্ত জার্সি গায়ে চাপাল মেসিরা? এমনিতেও ইংল্যান্ডের সঙ্গে লড়াইটা ইতিহাস, আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর আত্মমর্যাদার লড়াই। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে বিতর্কিত কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, এরপর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোল, সব মিলিয়ে এই দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উত্তপ্ত লড়াইগুলোর একটি। মাঠের ৯০ মিনিটে যেন কয়েক দশকের ইতিহাসও পাশাপাশি দৌড়ায়।
তবে গোল হজমের পর যখন পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা, তখন অনেকেই হয়তো এই জার্সিকেই দুষেছেন। যদিও এবার আর দুঃখের নয়, সুখের স্মৃতিই ফিরিয়ে এনেছে মেসির এই দল।

১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার সেই অমর সৃষ্টি তো হয়েছিল এই জার্সি গায়ে চাপিয়েই। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে বধ করেছিল আর্জেন্টিনা। তখনও গায়ে ছিল এই অ্যাওয়ে জার্সি। সেই সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন মেসি। শ্রেষ্ঠত্ব তো শুধুই ম্যারাডোনার নয়, মেসিরও। ম্যারাডোনার স্মৃতিতে মোড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, মেসিই যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনলেন আর্জেন্টিনার গৌরবের সেই চিরচেনা গল্প।
Share via:










