মাঠভর্তি তারকা। বিগত ম্যাচগুলোতে সবারই অনবদ্য পারফরম্যান্স। কিন্তু ট্রফির চূড়ান্ত মহারণে যাওয়ার আগেই ছিটকে যেতে হলো। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দিদিয়ের দেশম কি তবে আধুনিক ফুটবলের বদলে যাওয়া ট্যাকটিক্সের কাছেই হেরে গেলেন?
ফ্রান্সের ডাগআউটে চৌদ্দ বছরের দীর্ঘ রাজত্ব শেষে বিদায়টা করুণই হলো তার। স্পেনের বিপক্ষে সেমিতে পরাজয়ের পর ফরাসি কোচের লাল হয়ে যাওয়া মুখটা যেন তার অধ্যায় সমাপ্তির প্রতীক হয়ে উঠল।

আসরজুড়ে ফ্রান্সের কৌশলই ছিল স্বতন্ত্র নায়কদের দিয়ে অতিমানবীয় গল্প লেখানোর প্রয়াস। কিলিয়ান এমবাপ্পের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষমতা, মাইকেল ওলিসের শৈল্পিক ছোঁয়া কিংবা উসমান ডেম্বেলের ড্রিবলিং আর গতির মতো একঝাঁক শক্তিশালী অস্ত্র নিয়ে সাজানো ছিল তাদের দুর্গ। অথচ আধুনিক ফুটবলে খেলা হয় টিমওয়ার্কের মাধ্যমে। ঐক্যবদ্ধ প্রেসিং, পরিকল্পিত আক্রমণ আর জমাট রক্ষণের কৌশল নিয়েই দলটি ২০১৮ সালে শিরোপা জেতে।
বিপরীতে, স্পেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে তারকানির্ভরতার বদলে বিশ্বাস রেখেছিলেন শিষ্যদের দলবদ্ধ পারফরম্যান্সের ওপর। মিকেল ওইয়ারসাবাল, লামিন ইয়ামাল, ফাবিয়ান রুইজ আর দানি অলমোদের ওপর রাখা সেই আস্থাই তাদের সাফল্যের মূল মন্ত্র হয়ে ওঠে ফরাসীদের বিপক্ষে।

২০২৬ সালের এই ফ্রান্স তাই এখন ১৯৫৪ সালের হাঙ্গেরি কিংবা ১৯৭৪ সালের নেদারল্যান্ডসের মতো শুধুই এক অপূর্ণ গল্পে পরিণত হলো। অবিশ্বাস্য সব প্রতিভায় ঠাসা হলেও দেশমের শিষ্যরা ইতিহাসের পাতায় আরেকবার প্রথম হওয়ার সুযোগ পেল না আধুনিক ট্যাকটিক্সের সামঞ্জস্যতা ধরে না রাখায়। আর দে লা ফুয়েন্তে করলেন দারুণ বাজিমাত গতিময় বুদ্ধিমত্তার বদৌলতে!










