পরাজয়ের বিষাদেও জ্বলজ্বলে দুই নক্ষত্র

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওডিআই খেলতে নেমে রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলি যেন ছুঁলেন এক অনন্য নজির। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম জুটি হিসেবে ৪০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ একসঙ্গে খেলার কীর্তি গড়েছেন এই দুই মহাতারকা।

ক্রিকেটের ঐতিহাসিক মঞ্চ লর্ডস। এবার এই মাঠ সাক্ষী হলো ভারতীয় ক্রিকেটের এক বিরল ইতিহাসের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামতেই রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলি ছুঁলেন এমন এক মাইলফলক, যা এর আগে কোনো ভারতীয় জুটি স্পর্শ করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ভারতীয় জুটি হিসেবে ৪০০টি ম্যাচ একসঙ্গে খেলার কীর্তি গড়েছেন এই দুই মহাতারকা।

প্রায় দেড় দশক ধরে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ হয়ে আছেন রোহিত-কোহলি। সময় বদলেছে, ফরম্যাট বদলেছে, সতীর্থ বদলেছে, কিন্তু এই দুজনের নাম সবসময়ই থেকেছে ভারতের সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে। টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ওয়ানডেতে এখনো দেশের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

লর্ডসের সেই বিশেষ দিনে জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে পারেনি ভারত। তবে হারের মাঝেও নিজেদের জাত চিনিয়েছেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। রোহিত শর্মা খেলেছেন দুর্দান্ত ১৩৮ রানের ইনিংস, আর বিরাট কোহলি করেছেন ৭৪ রান। শেষ পর্যন্ত ভারত ২৭ রানে হেরে গেলেও রোহিত-কোহলির লড়াই ছিল আলাদা করে আলোচনায়।

এই দুই কিংবদন্তির সামনে এখন বড় লক্ষ্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শেষ অধ্যায়ে যাওয়ার আগে ভারতের জার্সিতে আরও একটি বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

পরিসংখ্যানেও দুজনের অবস্থান অনন্য। রোহিত শর্মার ঝুলিতে রয়েছে ৫০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ২০ হাজারের বেশি রান। অন্যদিকে বিরাট কোহলি, যাকে ক্রিকেট বিশ্ব চেনে ‘রান মেশিন’ নামে, গড়েছেন ২৮ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রানের পাহাড়। দুজনের মিলিত সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৩৫-এর বেশি।

রোহিত-কোহলির এই পথচলা শুধুই সংখ্যার গল্প নয়। এটি ভারতীয় ক্রিকেটের এক সোনালি অধ্যায়ের নাম। লর্ডসে ৪০০তম ম্যাচের মাইলফলক সেই অধ্যায়ে যোগ করল আরও একটি স্মরণীয় পৃষ্ঠা।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link