ভারতের বাজার ধরতেই অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট!

ভারতের বিশাল ক্রিকেট বাজারকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতেই অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট—এমনটাই উঠে এসেছে রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে। যদিও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নতুন নয়, তবে এর পেছনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণ নিয়েই এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতের বিশাল ক্রিকেট বাজারকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতেই অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট—এমনটাই উঠে এসেছে রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে। যদিও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নতুন নয়, তবে এর পেছনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণ নিয়েই এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ক্রিকেট সর্বশেষ অলিম্পিকে ছিল ১৯০০ সালের প্যারিস গেমসে। এরপর ১২৮ বছর অপেক্ষার পর ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে খেলাটি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) ১৪১তম সেশনে ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায়। পরে নিশ্চিত করা হয়, পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছয়টি করে দল অংশ নেবে। তবে দল বাছাইয়ের নিয়ম ও ভেন্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো বাকি।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইওসির ক্রীড়া পরিচালক পিয়ের ডুক্রে বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা হওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেট এতদিন অলিম্পিকের অংশ ছিল না। অথচ যেসব বাজারে ক্রিকেট সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, সেখানে অলিম্পিক এখনো অন্য অনেক অঞ্চলের মতো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেট লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে এমন অনেক দর্শককে নিয়ে আসবে, যারা সাধারণত অলিম্পিক দেখেন না। এটি দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। আমরা নতুন দর্শক পাব, আর ক্রিকেটপ্রেমী বাজারগুলোতে অলিম্পিকের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।’

ডুক্রের এই বক্তব্যই স্পষ্ট করে দেয়, ক্রিকেটকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য শুধু জনপ্রিয় একটি খেলাকে অলিম্পিকে যুক্ত করা নয়; বরং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট দর্শকগোষ্ঠীকে অলিম্পিকের সঙ্গে যুক্ত করা। আর সেই দর্শকের সবচেয়ে বড় অংশ ভারতীয় উপমহাদেশে।

বর্তমানে বিশ্বের ক্রিকেট অর্থনীতির কেন্দ্র ভারত। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল স্ট্রিমিং—সব ক্ষেত্রেই ভারতের আধিপত্য। আইপিএল বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেট লিগ, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সম্প্রচার বাজারও ভারত।

আইওসি জানিয়েছে, ২০২৮ অলিম্পিকের ভারতীয় উপমহাদেশের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে ইতোমধ্যেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ধারণা, এই স্বত্বের মূল্য ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। প্যারিস অলিম্পিকের ভারতীয় সম্প্রচার চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার।

ভারতের সঙ্গে আইওসির সম্পর্কও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের আগ্রহ এবং দেশটির বিশাল ক্রীড়া বাজারকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে আইওসি। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিকেটকে অলিম্পিকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অংশ।

তাই ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি খেলার ফেরা নয়। এর পেছনে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট বাজার, কোটি কোটি নতুন দর্শক এবং অলিম্পিকের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কৌশলের বড় হিসাব।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link