ফুটবলে আনুগত্যের শেষ সীমানা ঠিক কোথায়, তা ভেসে ওঠে ফ্রাঙ্কো বারাসির কথা ভাবলে। ২০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পুরোটাই তিনি গায়ে জড়িয়ে ছিলেন এসি মিলানের বিখ্যাত লাল-কালো জার্সি। ১৫ মৌসুম ধরে ছিলেন ক্লাবটির ‘প্রিয় ক্যাপিতানো’। আশির দশকে মিলান দুইবার অবনমিত হয়ে সিরি-বি’তে নেমে গেলেও, বারাসি পিছু হটেননি। ধ্বংসস্তূপ থেকেই তিনি ক্লাবকে নিয়ে গিয়েছিলেন সাফল্যের শিখরে। এই বীর সেনানিরও প্রস্থান ঘটল এবার ৬৬ বছর বয়সে। মিলানিস্তিরা বিদায় জানালেন তাদের প্রিয় ‘ক্যাপিতানো’-কে।
মিলানের আইকনিক ‘৬’ নম্বর জার্সি পরা ডিফেন্ডার বারাসি প্রথাগত রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মতো দীর্ঘকায় ছিলেন না। এমনকি তার গতিও ছিল গড়পড়তা ঘরানার। কিন্তু তার ছিল প্রখর ‘গেম সেন্স’। প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকার কিছু ভেবে ওঠার আগেই তিনি বলের গতিপথ বুঝে নিতেন।
আধুনিক ফুটবলে ‘সুইপার’ পজিশনটিকে এক নতুন রূপ দেন বারাসি। তিনি বলকে অনুসরণ করতেন, মনোযোগকে ধরে রাখতেন। তারপরই সুযোগ বুঝে করতেন নিখুঁত ইন্টারসেপশন আর ক্লিয়ারেন্স। তার ডিফেন্স যেন ছিল নিটোল এক কবিতা।

পাওলো মালদিনি, কোস্টাকুর্তা আর তাসোত্তিকে নিয়ে বারাসি গড়ে তুলেছিলেন এক অপরাজেয় প্রাচীর। ফ্যাবিও ক্যাপেলোর অধীনে ৫৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার যে রেকর্ড গড়েছিল মিলান, তা আজও ফুটবল বিশ্বের এক পরম বিস্ময়। বারাসিদের রক্ষণের সেই নিঁখুত ‘অফসাইড ট্র্যাপ’ কৌশলেই যেন প্রতিপক্ষের আক্রমণ বারবার থমকে যেত। মিলানের শোকেজে ছয়টি সিরি আ এবং তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই ইতালিয়ান কিংবদন্তি।
জাতীয় দলেও অনবদ্য পারফরম্যান্স করেছেন বারাসি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে তার সেই বীরত্বগাথা এখনও দর্শকদের দোলা দেয়। তিনি পুরো ১২০ মিনিট ইতালির রক্ষণদুর্গ পাহারা দেন। অথচ ২৫ দিন আগেই তিনি হাঁটুর অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতাল ছেড়েছিলেন। টাইব্রেকারে ব্রাজিলের কাছে হারলেও বারাসি প্রমাণ করেছিলেন মনের জোরই আসল শক্তি।
মিলান তাদের ‘ক্যাপিতানো’-র অবসরের পর তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘৬ নম্বর’ জার্সিটি চিরতরে তুলে রেখেছে। ফুটবল দুনিয়া অনেক সম্রাটকে দেখলেও বারাসির মতো রক্ষণের শিল্পী এসেছেন খুব কমই। তাই বারাসি থাকুন বা না থাকুন, সান সিরোর আকাশে সর্বদাই প্রতিধ্বনিত হবে তার অমর নাম।











