উইকেটে যখন বোলারদের জন্য কিছু থাকে না। যখন ব্যাটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে থাকেন, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রতিপক্ষের হাতে, তখনই দরকার হয় এমন একজনের, যিনি এক লহমায় দৃশ্যপট বদলে দিতে পারেন। বাংলাদেশ সেই একজনকে ভীষণ মিস করছে, মিস করছে নাহিদ রানাকে।
তাসকিন আহমেদের হাতে নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ আছে। হাসান মাহমুদের সুইংয়ের সামনে টিকে থাকা দুরূহ ব্যাপার। তবে এই জুটি নতুন বলের জুটি। সবসময় তাঁরা সার্ভিস দিতে পারবেন না। সবসময় দরকার পড়লেই উইকেট আনতে পারবেন না, জমে যাওয়া জুটির শিকড় থেকে উপড়ে ফেলা তাঁদের দিয়ে সম্ভব নয় সবসময়। সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ মূলত এখানেই পিছিয়ে পড়েছে।
প্রথম ইনিংসে ফিরে যাওয়া যাক। হাসান-তাসকিন মিলে ২৭ রানের মধ্যেই তিন উইকেট তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। নতুন বলে তাঁদের সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি কেউ। তবে এরপরই আমির জাঙ্গু আর কেভিন উইকহ্যামের মধ্যে গড়ে ওঠে ১৩১ রানের জুটি। সেটা ভাঙলে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে জাঙ্গু গড়েন আরও ১০৬ রানের জুটি।

এবার দ্বিতীয় ইনিংসে ফেরা যাক। ওপেনিংয়ে ৮৫ আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মাঝে হজ এবং উইকহ্যামের ১৬৫ আর শেষটায় হজ আর জাঙ্গুর অপরাজিত ৬১ রানের জুটি বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। মূলত মাঝের ওভারে বা সময়ে কোনো উইকেটের দেখাই পায়নি বাংলাদেশ, সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারদের জন্য সিলেটের উইকেট সহায়ক হয়ে উঠেছে।
একাদশ নির্বাচন, দুই পেসার তিন স্পিনারের হিসাব সব ছাপিয়ে একটা জায়গায় বাংলাদেশের দুর্বলতা স্পষ্ট। পুরোনো বলে উইকেট প্রাপ্তি নেই, মাঝের ওভারে কোনো ত্রাস ছড়াতে পারছেন না বোলাররা। সেখানেই নাহিদ রানাকে বারবার মনে পড়ছে।
যখন সব সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়, তখনই তো নাহিদ রানা কিছু একটা করে ফেলেন। এটাই তাঁর ইউএসপি। র পেসের বদৌলতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারের মনে ভয় ঢুকিয়ে উইকেট আদায় করেন, সেটা নতুন বল হোক বা পুরোনো, স্পোর্টিং উইকেট হোক কিংবা স্পিন-ফ্রেন্ডলি। এখানেই নাহিদের না থাকাটা ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। সিলেটে বারবার মনে পড়ছে তাঁকে।











