পুরো চতুর্থ দিনটাই নিজের করে নিলেন হজ!

সকালে কিং কে ফিরিয়ে বাংলাদেশ ভেবেছিল দিনটা এবার তাদের হাতে আসছে। কিন্তু সন্ধ্যা নামার আগেই পুরো দিনটা তাদের মুঠো থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন হজ। হাতে আসা ম্যাচ এভাবে ফসকে যায় কীভাবে, এই প্রশ্নটাই এখন বাংলাদেশের সামনে!

হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে যে কামব্যাক বাংলাদেশ করেছিল, তাতে মোমেন্টাম ছিল পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে। সিলেটে চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল এমন একজনকে, যে পরিস্থিতিটা নিজের হাতে তুলে নেবে, বোলারদের ছাপিয়ে যাবে আর বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে দেবে। কাভেম হজ ঠিক সেটাই করলেন।

সকালে কিংয়ের ফিফটি আর মিরাজের হাতে তাঁর বিদায়ে খেলায় ফেরার একটা আভাস পেয়েছিল বাংলাদেশ। হজ ক্রিজে আসার পর সেই আভাস আর টিকল না। উইকহ্যামের সঙ্গে ১৬৫ রানের জুটি, তারপর জাঙ্গুকে নিয়ে টিকে থাকলেন। বিকেলে আলো কমে আসায়  দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত হজ অপরাজিত আছেন ১৮৯ বলে ১৪০ রানে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড ৩১৫।

তাইজুল কে নিয়েই সবচেয়ে বেশি ছেলেখেলা করেছেন হজ। ২৯ ওভারে ১১৮ রান দিয়েছেন, উইকেট মাত্র দুটি। হজ তাঁকে খেলেছেন ইচ্ছেমতো, হাঁটু গেড়ে সুইপ করে বারবার সীমানা পার করেছেন। হাসান মাহমুদ আর তাসকিনও কোনো চাপ তৈরি করতে পারেননি। তাসকিনের গতি নেমে এসেছিল ১২৫ কিলোমিটারের আশেপাশে, নাহিদ রানার অভাবটা তখন আরও বেশি চোখে লেগেছে। মিরাজ আর নাঈম কিছুটা টার্ন পেলেও সেটা এত ধীর ছিল যে ব্যাটাররা সময় নিয়ে সামলে নিয়েছেন।

হতাশা ফুটে উঠেছে মাঠের প্রতিটি কোণায়। শান্ত বারবার বোলারদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, একবার রাগে বল ছুড়ে মারলেন কিপারের দিকে। ফিল্ডিংয়ে ঢিলেঢালা ভাব, সহজ রান ছেড়ে দেওয়া, মাঝেমধ্যে ফিজিওর দৌড়ে আসা। তার ওপর দুবার আম্পায়ারের আউটের সিদ্ধান্ত রিভিউয়ে উল্টে গেল হজের পক্ষে। বাংলাদেশের জন্য সেটা ছিল যেন কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা।

এটি হজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি, আর তিনটিই দেশের বাইরে। সকালে কিং কে ফিরিয়ে বাংলাদেশ ভেবেছিল দিনটা এবার তাদের হাতে আসছে। কিন্তু সন্ধ্যা নামার আগেই পুরো দিনটা তাদের মুঠো থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন হজ। হাতে আসা ম্যাচ এভাবে ফসকে যায় কীভাবে, এই প্রশ্নটাই এখন বাংলাদেশের সামনে!

 

Share via
Copy link